ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে চাপা অস্বস্তি যেন সামনে চলে আসছে। বাইরে থেকে সব কিছু স্বাভাবিক দেখালেও, ভেতরে ভেতরে দলীয় সমীকরণ বদলাচ্ছে কি? প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছিল। আর সেই ক্ষোভই এবার বড় আকার নিল মুর্শিদাবাদের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে, যা ভোটের আগে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
জলঙ্গির বিদায়ী বিধায়ক আবদুর রজ্জাক (Abdur Razzak) এবার প্রকাশ্যে দল ছাড়ার ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যাত্রায় একাধিক দল পেরিয়ে আসা এই নেতা এবার ভোটের মুখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে তাঁকে টিকিট না দেওয়াতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। অবশেষে সেই ক্ষোভই বিস্ফোরিত হয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
দল ছাড়ার পাশাপাশি তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, ডোমকল মহকুমার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রেই শাসকদলের পরাজয় নিশ্চিত। তাঁর কথায়, “ডোমকলে তিনটে হারবে, জলঙ্গি তো হারবেই।” শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে যাতে তাঁকে ‘ভোট কাটার’ অভিযোগে কাঠগড়ায় না দাঁড় করানো হয়, সেই কারণেই আগেভাগেই তিনি দল থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আবদুর রজ্জাক টানা তিনবার জলঙ্গি থেকে বিধায়ক হয়েছেন। ২০১১ ও ২০১৬ সালে বামফ্রন্টের টিকিটে জয়ী হওয়ার পর ২০২১ সালে দলবদল করে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে জিতে আসেন। কিন্তু এবারে তাঁর বদলে প্রার্থী করা হয়েছে বাবর আলিকে। অন্যদিকে এই কেন্দ্রে বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসও নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে ভোটের লড়াই যে ত্রিমুখী বা বহুমুখী হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ “স্ত্রীকে পাঠাও, নমাজ পড়ো” টিসিএস নাসিক কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ধর্মীয় চাপ থেকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে সরগম নেটপাড়া!
সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাক (Indian Political Action Committee)-কে ঘিরে। তাঁর অভিযোগ, এই সংস্থাই নাকি দলকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এমনকি তিনি দাবি করেন, “দলটাকে শ্মশানে পাঠিয়ে দিয়েছে আই-প্যাক।” এই ধরনের মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই জলঙ্গি, রানিনগর ও ডোমকলের ফল কি সত্যিই বদলাবে? নাকি এই মন্তব্য শুধুই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ? সব কিছুর উত্তর মিলবে ভোটের ফল প্রকাশ অর্থাৎ চার মে’র দিনেই।





