‘বাংলার যুবকদের ভবিষ্যৎ নয়, শুধু ভাইপোর নিয়েই ব্যস্ত মমতাদিদি’ কটা*ক্ষ অমিত শাহর! সত্যিই কি উত্তরাধিকার রাজনীতির পথে রাজ্য?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ এখন তুঙ্গে। প্রথম দফার ভোট আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা দূরে, আগামী ২৩ এপ্রিল শুরু হতে চলেছে ভোটগ্রহণ। তার আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ঝড় তুলেছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের সভা-মিছিল চলছে, তেমনই বিজেপিও সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছে। এই আবহেই মঙ্গলবার ফের বাংলায় প্রচারে নামলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, একাধিক জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি রাজ্যের বর্তমান সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং পরিবর্তনের ডাক দেন।

উত্তরবঙ্গের কার্শিয়াংয়ের সভামঞ্চ থেকে অমিত শাহ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের গোরখা সমস্যার প্রসঙ্গও। শাহ দাবি করেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং ৬ মে-র মধ্যেই এমন একটি স্থায়ী সমাধান আনা হবে যাতে গোর্খা সম্প্রদায়ের মানুষ সন্তুষ্ট হন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কিছু গোর্খার নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

শাহের বক্তব্যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বড় করে উঠে আসে। সন্দেশখালি থেকে শুরু করে মাটিগাড়া, বাগডোগরা, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ, সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজ এবং আরজি কর হাসপাতালের মতো একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান শাসনে মহিলাদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। বিজেপি সরকার গঠিত হলে এই ধরনের অপরাধে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে এবং দোষীদের জেলে পাঠানো হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর কথায়, “মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রথম দায়িত্ব হবে।”

এদিনের সভা থেকে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট করে দেন অমিত শাহ। তিনি দাবি করেন, দার্জিলিং অঞ্চলে গত তিনটি নির্বাচনে বিজেপি ভালো ফল করেছে, কিন্তু এবার গোটা পশ্চিমবঙ্গেই পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। তাঁর মতে, রাজ্যের মানুষ ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে তাঁরা বর্তমান সরকারকে আর ক্ষমতায় রাখতে চান না। পাশাপাশি শালবনির সভা থেকে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন, যা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “যে পোস্ট ভাইরাল হচ্ছে, তা আমার নয়” সহ-অভিনেতা রাহুলের মৃ’ত্যুর পর মুখ খোলা নিয়ে ভুয়ো পোস্ট! বিভ্রান্তি কাটাতে, অবশেষে মুখ খুললেন শ্বেতা মিশ্র! কী বললেন তিনি?

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও পিছিয়ে নেই প্রচারে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিনে চারটি জনসভা করার কর্মসূচি নিয়েছেন, হলদিয়া থেকে শুরু করে ব্যারাকপুর, জগদ্দল এবং জোড়াসাঁকোতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করবেন তিনি। পাশাপাশি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষ্ণুপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পূর্ব বর্ধমানে জনসভা ও রোড শো করছেন। সব মিলিয়ে ভোটের আগে শেষ মুহূর্তে প্রচারের লড়াই চরমে পৌঁছেছে। এখন দেখার, এই জোরদার প্রচার কতটা প্রভাব ফেলে ভোটের ফলাফলে এবং রাজ্যের ক্ষমতার মসনদে কে বসতে চলেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর