মার্কিন রাজনীতির মঞ্চে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতকে ‘নরককুণ্ড’ বলে উল্লেখ করা এবং ভারতীয়দের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই মন্তব্য শুধু কূটনৈতিক শালীনতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, বরং ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। অবশেষে এই বিতর্কে মুখ খুলে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়া দিল্লি।
ঘটনার সূত্রপাত একটি পুরনো পডকাস্ট ভিডিও থেকে, যা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ভিডিওতে মার্কিন নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আলোচনার সময় ভারত ও চিনকে ‘হেলহোল’ বা নরককুণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, আমেরিকায় জন্ম নিলেই নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগের ফলে বহু মানুষ ভারত, চিন বা বিশ্বের অন্য ‘হেলহোল’ দেশ থেকে পরিবার নিয়ে চলে আসে। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, ভারত ও চিনের নাগরিকদের ‘ল্যাপটপ হাতে গুণ্ডা’ বলেও কটাক্ষ করেন, যা নিয়ে আরও বিতর্ক ছড়ায়।
এই মন্তব্য সামনে আসতেই কড়া সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রশ্ন ওঠে, পুরনো এই ভিডিওটি কেন আবার শেয়ার করা হল এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে মার্কিন দূতাবাসের তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়, যেখানে ভারতকে ‘মহান’ এবং ‘বন্ধু’ দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে তাতেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।
এদিকে ভারতের বিদেশমন্ত্রক এই মন্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানায়। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই মন্তব্যগুলি “অজ্ঞতাপ্রসূত, অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ”। তিনি আরও জানান, এই ধরনের মন্তব্য ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রকৃত চিত্রকে প্রতিফলিত করে না। বরং দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ ডিসিআরসিতে ঢুকে পড়লেন ‘ডিলিটেড ভোটার’, আর বাইরে আটক ইভিএম গাড়ি! হলদিবাড়ির ঘটনায় তীব্র বিতর্ক! নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কি তবে বড় সংকটে?
শুধু ভারত সরকারই নয়, এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনও। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, এই ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। তারা ট্রাম্পকে এই পোস্ট মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়ে এশীয় আমেরিকানদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক শালীনতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।






