ভোটের সময় প্রার্থীদের প্রচারে থাকে গাড়ির বহর, বাইকের মিছিল, আর কর্মীদের ভিড়। কিন্তু ভোট মিটতেই যেন সবকিছু বদলে গেল রায়গঞ্জের বিজেপি প্রার্থী কৌশিক চৌধুরীর জীবনে। বিলাসবহুল প্রচারের পর ফের তিনি ফিরে গেলেন তাঁর পুরনো সঙ্গী, একটি সাধারণ সাইকেলে। রবিবার সকালে ধুলো ঝেড়ে সেই সাইকেলেই চড়লেন তিনি, আর তাতেই যেন ধরা পড়ল একেবারে ভিন্ন এক রাজনৈতিক মুখ।
কৌশিক চৌধুরী, যিনি এলাকায় কুন্তল নামেও পরিচিত, আগে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভোটে প্রার্থী হওয়ার জন্য সেই কাজ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। একসময় ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র সক্রিয় কর্মী ছিলেন তিনি, আর সেই সূত্রেই রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করে বিজেপি। এই কেন্দ্রে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের কৃষ্ণ কল্যাণী, যাঁর সঙ্গে জমজমাট লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রচারের সময়ে কৌশিকের জীবন ছিল একেবারে অন্যরকম। গাড়ি, টোটো কিংবা সহকর্মীদের মোটরবাইকে চেপে দিনের পর দিন চষে বেড়িয়েছেন গোটা এলাকা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে প্রচার, কর্মীরাই সামলেছেন সবকিছু। কিন্তু ভোট শেষ হতেই সেই চেনা বিলাসিতা উধাও। এখন আর নেই গাড়ি বা বাইক টোটোতে উঠলেও ভাড়া দিতে হবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই তিনি ফিরে গিয়েছেন নিজের পুরনো ভরসা, সাইকেলের কাছে।
উকিলপাড়ার নিজের বাড়িতে ৮৩ বছরের মা দীপ্তি চৌধুরীর সঙ্গে থাকেন কৌশিক। তাঁর মা একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকা। কৌশিক এখনও অবিবাহিত, আর মায়ের দেখাশোনা, রান্নাবান্না, বাজার করা সবই নিজে হাতে করেন। ভোট মিটতেই সেই পুরনো রুটিনেই ফিরেছেন তিনি। সকালে উঠে মায়ের সঙ্গে গল্প, তারপর সাইকেলে করে বাজার সব কিছুই যেন আগের মতোই। কৌশিক নিজেই বলেন, “মাস দেড়েক জীবনটা পুরো বদলে গিয়েছিল। এখন আবার আগের মতোই চলছে, আর এই সাইকেলটাই আমার ভরসা।”
আরও পড়ুনঃ চাকরির আড়ালে ধর্মান্তরণের ফাঁদ? TCS কাণ্ডে নিদা খানের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্য*কর অভিযোগ! মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ছক, জোর করে ধর্ম বদলের চেষ্টা, কর্পোরেটের আড়ালে কী চলছিল?
তবে রবিবার সকালে সাইকেল নিয়ে বেরোতে গিয়ে ছোটখাটো সমস্যার মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। দেখা যায়, সাইকেলের দুটো চাকাই লিক হয়ে গিয়েছে। পরে তা সারিয়ে আবার রাস্তায় নামেন তিনি। এই সরল জীবনযাপন রাজনৈতিক চাকচিক্যের সঙ্গে একেবারেই বেমানান বলেই মনে করছেন অনেকে। বিজেপি নেতৃত্ব রায়গঞ্জ কেন্দ্রকে ‘নিরাপদ আসন’ বলেই মনে করছে গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তাদের ভালো ফল ছিল। এখন প্রশ্ন, সাধারণ জীবনযাপনের এই ইমেজ নিয়ে কৌশিক কি পারবেন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী কৃষ্ণ কল্যাণীকে টেক্কা দিতে? তবে জিতুন বা হারুন, কৌশিকের কথায় স্পষ্ট “সাইকেল আমি ছাড়ব না। খুব দরকার না হলে দলীয় গাড়িও ব্যবহার করব না।”






