“স্ট্রংরুমে শোকসভা করছে তৃণমূল, ওরা বুঝে গেছে হারছে”, শুভেন্দু অধিকারীর বিস্ফোরক দাবি! তাহলে কি সত্যিই ভোটের ফলের আগেই পরাজয় মেনে নিয়েছে মমতা সরকার, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও বড় রাজনৈতিক হিসাব?

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। স্ট্রংরুম পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে দীর্ঘক্ষণ উপস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই আবহেই তৃণমূলকে সরাসরি নিশানা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শুক্রবার ভবানীপুরের দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়েই তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, স্ট্রংরুম পরিদর্শন তাঁর নিয়মিত কাজের অংশ এবং এর জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আমার জন্য ক্যামেরা, বড় গাড়িতে ওয়াশরুম, বিছানা বা বিশেষ খাবারের দরকার নেই।” পাশাপাশি তৃণমূল প্রার্থীদের স্ট্রংরুমে ভিড় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে গিয়ে তারা “শোকসভা” করছে, কারণ তারা বুঝে গিয়েছে যে তারা হারছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় চার ঘণ্টা স্ট্রংরুমে থাকার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, কোনও প্রার্থী বা এজেন্টকে এত দীর্ঘ সময় সেখানে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। যদিও তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনেননি, তবুও ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি পরিকল্পিত। তাঁর কথায়, “উনি বাড়িতে পরার শাড়ি পরে পরিকল্পনা করে এসেছিলেন এবং যতক্ষণ না হার নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ সেখানে থাকারই পরিকল্পনা ছিল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি কর্মীদের চাপে পড়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেখান থেকে চলে যেতে হয়েছে।

ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোট নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পুরো ঘটনাই একটি “ড্রামা-নাটক”। তাঁর মতে, তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “ওঁর পার্টি হারছে, উনি নিজেও হারছেন। রাজনৈতিক হতাশা থেকেই এসব করছেন।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজেপি ১২ থেকে ১৪ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকবে, যদিও বাকি ওয়ার্ডগুলোতে তৃণমূলের এগিয়ে থাকার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “বিজেপি প্রার্থীকে না জানিয়েই খোলা হয়েছে স্ট্রংরুম?” পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া ঘিরে গুরুতর অভিযোগ, নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন বিজেপি প্রার্থীর!

এদিকে ফলতা, মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ড হারবারের একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবিও তুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, ফলতার অন্তত ৬০টি বুথে রিপোল হওয়া উচিত ছিল। মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি বুথে পুনর্নির্বাচনকে তিনি সমর্থন করলেও ডায়মন্ড হারবারে আরও বেশি বুথে ভোটগ্রহণ হওয়া উচিত ছিল বলে দাবি করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, রাজ্যজুড়ে ৮০ শতাংশের বেশি হিন্দু ভোট বিজেপির পক্ষে গেছে। উত্তর মালদার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, প্রায় ৮৫ শতাংশ হিন্দু ভোটার বিজেপিকে সমর্থন করেছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles