২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্য প্রশাসনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিধাননগর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ও চিকিৎসক ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম এখন আর নির্দিষ্ট নিয়মে চলছে না, বরং হোয়াটস্যাপ মেসেজ ও ফোন কলের নির্দেশেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
আজ অর্থাৎ ২ মে রাজ্যে চলছে রিপোল, ডাঃ মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সকালে প্রায় সাড়ে ৯টার সময় একটি ফোন কল পান, যেখানে তাঁকে দ্রুত উপস্থিত হতে বলা হয় পোস্টাল ব্যালটের “সেগ্রেগেশন” প্রক্রিয়ার জন্য। ফোনে জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকলেও সকাল ৯:৩০ থেকে ১১:৩০-এর মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হবে। পরে তিনি মেইল চেক করে দেখেন, সত্যিই তাঁকে ডাকা হয়েছে। সেই অনুযায়ী তড়িঘড়ি করে তিনি এবং তাঁর কর্মীরা সেখানে পৌঁছন।
তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখেন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে কোনও কর্মকর্তার উপস্থিতি ছিল না, অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর এক-দুজন কর্মী আসেন। এরপর ‘স্ট্রং রুম’ খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা তাঁর মতে অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং নাটকীয় ছিল। এই সময় তিনি জানতে পারেন যে, যেসব পোস্টাল ব্যালটের সেগ্রেগেশন হওয়ার কথা ছিল, তার কিছু অংশ আগেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, যা তাঁকে আরও সন্দিহান করে তোলে।
ডাঃ মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এক আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, আগের দিনই বেশ কিছু কাজ হয়ে গিয়েছে। এমনকি এক সরকারি কর্মীও নাকি স্বীকার করেন যে স্ট্রং রুম আগেও একাধিকবার খোলা হয়েছে। পরে লকবুক পরীক্ষা করে দেখা যায়, অন্তত ৮ থেকে ১০ বার স্ট্রং রুম খোলা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে কোনও লিখিত নোটিসও ছিল না। এই ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুনঃ হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টেও বড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল! গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ব্যবহারে কোনও অসুবিধা নেই, শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বার্তা!
সবচেয়ে বড় অভিযোগ হিসেবে তিনি দাবি করেন, এই স্ট্রং রুম খোলার নির্দেশ নাকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই “ভারবাল অর্ডার” বা মৌখিক নির্দেশে হয়েছে। তাঁর মতে, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এমন অনিয়ম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে বিপজ্জনক এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। তিনি এই বিষয়টি নিয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।






