আমফান মোকাবিলায় কলকাতায় পুরসভার ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মাঝেই সচিব পদ থেকে বিতাড়িত করা হল খলিল আহমেদকে। তাঁর জায়গায় এলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব বিনোদ কুমার। সূত্রের খবর, আজ শনিবার বিনোদ কুমার পুরসভায় এসে নিজের দায়িত্ব বুঝে নেবেন। তাঁর সামনে আপাতত দুটি মহা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ – আমফান পরবর্তী কলকাতাকে ছন্দে ফেরানো এবং করোনা সংক্রমণ রুখতে হিমালয় সমান দায়িত্ব সামলানো।
অতি শক্তিধর এই ঘূর্ণীঝড় কার্যত তিলোত্তমাকে লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেছে। পাঁচ হাজারের ওপরে গাছ পড়ে অবরুদ্ধ শহর কলকাতা। পুরকর্মীদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও তা সাফ করতে সাত দিন মতো সময় চেয়ে নিয়েছেন কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। এই পরিস্থিতিতেই পুরসভার সচিব পদ থেকে খলিল আহমেদকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন বিভাগে, এই বিভাগের প্রধান সচিব পদে তিনি আপাতত কাজ করবেন। সল্টলেকে দপ্তরের মূল ভবনই এবার থেকে তাঁর কার্যালয়। এই দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গেই তাঁকে ফের কাজ করতে হবে। আগে কলকাতা পুরসভার মেয়র হিসেবেও ফিরহাদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন খলিল আহমেদ।
গত ৬ মে পুর সচিব সুব্রত গুপ্তকে সরিয়ে সেই পদে আনা হয়েছিল খলিল আহমেদকে। এবার তাঁর বদলে পুর সচিব হচ্ছেন বিনোদ কুমার। যিনি স্বাস্থ্যদপ্তরের সচিব ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘ সময়ে ক্রীড়া দপ্তরেও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। স্বাস্থ্য দপ্তরে কাজ করার সুবাদে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় তাঁর কাজে বিশেষ সুবিধা হবে বলে মনে করছেন পুর দপ্তরের আধিকারিকরা। এই কাজের পাশাপাশি সর্বাগ্রে আমফান বিধ্বস্ত মহানগরীকে ফের সাজিয়ে গুছিয়ে তোলার মতো চ্যালেঞ্জও তাঁকেই সামলাতে হবে। পুরকর্মীদের দিয়ে গাছ সাফসুতরো করে রাস্তা পরিষ্কার করে দেওয়ার কাজ যত দ্রুত করতে পারবেন, ততই ভাল। নতুন পুরসচিব বিনোদ কুমারের কাছে সেই কাজই প্রত্যাশা করছেন শহরবাসী।





