“অনীকদাকে শত্রু ভাবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়…উনি বেঁচে থাকতে অন্যায়গুলো না করলে ভাল হত” প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তকে নিয়ে কী সমস্যা ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর? কী নিয়ে রাগে ফেটে পড়লেন শতরূপ ঘোষ?

চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তকে নিয়ে ফের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত পরিচালককে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন শতরূপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, অনীক দত্ত জীবিত থাকাকালীন যেভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আচরণ করা হয়েছিল, তা না হলেই ভাল হত। তিনি বলেন, কেউ মারা গেলে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়, কিন্তু অনীক দত্তকে শত্রু মনে করার কোনও বাস্তব কারণই ছিল না। শতরূপের দাবি, একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মতো দেখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, অনীক দত্ত কোনও রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি মূলত নিজের মত প্রকাশ করেছেন সিনেমার মাধ্যমে। সেই কারণেই তাঁকে ঘিরে অযথা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর মত।

শতরূপ ঘোষ বিশেষ করে অনীক দত্তের ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ছবিটি মুক্তির সময় নানা বাধার মুখে পড়েছিল এবং কার্যত সেটিকে হল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ওই সিনেমায় শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, সিপিআইএমকেও ব্যঙ্গ করা হয়েছিল। ছবিতে এমন একটি গান ছিল যেখানে বামপন্থী নেতাদের আচার আচরণ ও ভাষা ব্যবহারকে কৌতুকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। শতরূপের কথায়, অনীক দত্ত নিজে বামপন্থী মনোভাবের মানুষ হলেও নিজের মতাদর্শকেও তিনি সমালোচনার বাইরে রাখেননি। কিন্তু সেই ব্যঙ্গকে সিপিআইএম শত্রুতা হিসেবে নেয়নি। বরং তারা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিল বলেই দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, সমালোচনাকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে না দেখে গঠনমূলকভাবে নেওয়া যেত।

আরও পড়ুন: “গরু জ*বাই থেকে বিরত থাকুন, অন্যের ভাবাবেগে আঘাত করবেন না” সামাজিক মাধ্যমে বার্তা রেজওয়ানের! অশান্ত পরিস্থিতিতে, অভিনেতার সম্প্রীতির ডাককে কুর্নিশ জানাচ্ছেন ভক্তরা!

এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উল্লেখ করেন শতরূপ ঘোষ। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী চাইলে অনীক দত্তের সমালোচনাকে সহজভাবে নিতে পারতেন। কিন্তু তা হয়নি বলেই তাঁর আক্ষেপ। যদিও তিনি স্পষ্ট করে জানান, অনীক দত্তের মৃত্যু নিয়ে কোনও কটাক্ষ বা বিরূপ মন্তব্য করতে চান না। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রদ্ধা জানালে ভাল লাগত, তবে তিনি তা প্রয়োজন মনে করেননি। এতে অনীক দত্তের কোনও ক্ষতি হবে না বলেও মন্তব্য করেন শতরূপ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইতিহাসই বিচার করবে সমালোচনাকে গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল কি না। এই বিতর্কের মাঝেও তিনি অনীক দত্তকে একজন সাহসী চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেই মনে রাখতে চান বলে জানান।

নন্দনে অনীক দত্তের ছবি আবার দেখানোর দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এই প্রসঙ্গে শতরূপ ঘোষ বলেন, যদি সত্যিই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে তা অবশ্যই ভাল ব্যাপার হবে। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, যখন ছবিগুলি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, তখনই সেগুলিকে আটকে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, এখন ছবি দেখানো হলেও সেই অপমান বা অন্যায়ের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘অপরাজিত’ বা ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর মতো ছবিগুলি আবার পশ্চিমবঙ্গের দর্শকদের সামনে আনা উচিত। কারণ একসময় এই ছবিগুলি স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। যদিও শেষ সিদ্ধান্ত নন্দন কর্তৃপক্ষ ও ছবির পরিবেশকদের হাতেই রয়েছে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।

অনীক দত্তের শেষকৃত্য আগামীকাল সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে। শতরূপ ঘোষ জানিয়েছেন, পরিচালকের কন্যা ঐশী বাইরে থেকে কলকাতায় ফিরছেন। বিমানের সময় নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা থাকায় শেষকৃত্যের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুরাগীদেরও যাতে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ মেলে, সেই দিকটিও মাথায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে পিস ওয়ার্ল্ডে রাখা রয়েছে অনীক দত্তের মরদেহ। সেখান থেকে আগামীকাল তাঁর দেহ এনটিওয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হবে। চলচ্চিত্র জগতের বহু মানুষ সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। অনীক দত্তের মৃত্যুতে টলিউডের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর