‘মে মাসের ৪ তারিখের পর আবার বাংলার মানুষ যোগ্য জবাব দিল!’ নন্দনে ‘অপরাজিত’র জয়, পূরণ হল অনীক দত্তর অপূর্ণ স্বপ্ন! আবেগে ভাসলেন জিতু, পূর্বতন সরকারকে ফের করলেন নিশানা!

এক সময় নন্দনে প্রদর্শনের সুযোগ না পেয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছিল অনীক দত্ত পরিচালিত ‘অপরাজিত’। সেই ঘটনার কষ্ট দীর্ঘদিন বয়ে বেড়িয়েছিলেন পরিচালক। তবে সময়ের পরিক্রমায় পরিস্থিতি বদলেছে। ৫ জুন নন্দনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত হল ‘অপরাজিত’। যে ছবিকে একসময় নন্দনের পর্দায় জায়গা দেওয়া হয়নি, শেষ পর্যন্ত সেই ছবিই নন্দনে দর্শকদের সামনে এল। অনীক দত্তর প্রয়াণের পর এই প্রদর্শনী তাঁর প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বহু প্রতীক্ষিত এই মুহূর্ত ঘিরে উপস্থিত দর্শক ও শিল্পী মহলেও ছিল আবেগঘন পরিবেশ।

নন্দনে নিজের পরিচালিত ছবি দেখানোর স্বপ্ন প্রায় প্রত্যেক পরিচালকেরই থাকে। অনীক দত্তও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। কিন্তু ২০২২ সালে ‘অপরাজিত’ নন্দনে প্রদর্শনের অনুমতি পায়নি। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন বিস্তর আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ থাকলেও নন্দনের দরজা বন্ধই ছিল। দীর্ঘদিন পর সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। অবশেষে নন্দনের পর্দায় ‘অপরাজিত’ পৌঁছনোকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

শুধু ‘অপরাজিত’ নয়, অনীক দত্ত পরিচালিত ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিটিও নন্দনে প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পোস্টার প্রদর্শনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জেরে ‘অপরাজিত’ নন্দনে স্থান পায়নি। পরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কিছু পরিবর্তন আসে। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন ছবি আবার নন্দনের পর্দায় ফিরে আসে। ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ এবং ‘প্রত্যাবর্তন’-এর মতো ছবিও সেখানে প্রদর্শিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ‘অপরাজিত’রও নন্দনে প্রদর্শন সম্ভব হল।

তবে এই সম্মান নিজের চোখে দেখে যেতে পারলেন না অনীক দত্ত। ভালো সময়ের অপেক্ষা শেষ হওয়ার আগেই তিনি চিরবিদায় নিয়েছেন। পরিচালকের মৃত্যুর পর অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং পাপিয়া অধিকারীরা ঘোষণা করেন যে ৫ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত নন্দনে ‘অপরাজিত’ প্রদর্শিত হবে। এই উদ্যোগকে অনীক দত্তর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাঁর কাজ এবং চলচ্চিত্র ভাবনার প্রতি সম্মান জানাতেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আরও পড়ুনঃ ‘কথা বলা তো দূর…’ বাবা ছাড়া আরও একজন ছিল ‘চোখের বালি’, যার মুখও দেখেননি পাঁচ বছর! অবশেষে সেই তিক্ত সম্পর্কের কথা ফাঁস করলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়!

‘অপরাজিত’ ছবিতে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন জিতু। ছবিটি নন্দনে স্থান না পাওয়ার সময় তিনিও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। তাই বহু প্রতীক্ষার পর নন্দনের পর্দায় নিজের অভিনীত ছবির প্রদর্শন তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের মুহূর্ত হয়ে ওঠে। ৫ জুন নন্দনে ছবিটি দেখতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি। প্রদর্শনের সময় হাপুস নয়নে কেঁদে ফেলেন জিতু। অনেকে মনে করছেন, এই কান্না শুধু একজন অভিনেতার আবেগ নয়, বরং বহু বছরের অপেক্ষা, বঞ্চনা এবং শেষ পর্যন্ত স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতিরই প্রকাশ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর