মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে বছরভর একাধিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাংলা সিনেমার এই কিংবদন্তি অভিনেতার জীবন, অভিনয় এবং চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কীভাবে গোটা বছর ধরে অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি করা হবে, তা নিয়ে সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তমকুমার শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি ‘নায়কদের নায়ক’, তাই তাঁকে মহানায়ক বলা হয়। তাঁর জন্মশতবর্ষ পালনের দায়িত্ব পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি জানান, এবার মহানায়কের জন্মদিনকে ঘিরে উৎসবের আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে তাঁর প্রয়াণ দিবসে থাকবে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের কর্মসূচি। এই দুই দিনকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে পালনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে সংস্কৃতি জগতের প্রায় ১৫০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সন্দীপ রায়, মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ এবং মুনমুন সেনের মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আগামী ৩২তম আন্তর্জাতিক কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছর ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিধায়ক ও অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ কীভাবে সারা বছর ধরে পালন করা হবে, সেই বিষয়েই মূলত বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ফলে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বছরজুড়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মহানায়ককে স্মরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় এবার বাড়তে চলেছে পারদ! ময়দান ছেড়ে দাদাগিরির মঞ্চে এবার রাজনৈতিক লড়াই? কুণাল, সজল ও মদন মিত্র একসঙ্গে! সামলাতে পারবেন তো ‘ভালো তৃণমূল’ দেব?
বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ জানান, উত্তমকুমার বাঙালির গর্ব এবং তাঁর জনপ্রিয়তা বাংলা ছাড়িয়ে সারা দেশেই ছড়িয়ে ছিল। আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ উৎসব পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। মুম্বইয়েও উত্তমকুমারের কাজের বিস্তৃত পরিচিতি ছিল। তাই শুধু বাংলায় নয়, গোটা ভারতবর্ষ যেন এই জন্মশতবর্ষ উদযাপনকে মনে রাখে, সেই লক্ষ্যেই আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।






