সম্প্রতি ভারত ও চীনের মধ্যে যে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে এবার মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেন মার্কিন মুলুক। অন্যদিকে চলতি করোনার মরশুমে চীনের সাথে আমেরিকার ‘মধুর’ সম্পর্কের কথাও এখন সারা বিশ্ব জানে। এর মাঝে লাদাখ সীমান্তের সমস্যা মেটাতে দুই দেশকে এহেন প্রস্তাব দেওয়াতে অবাক হয়েছেন রাজনৈতিক মহল।
বুধবার একটি টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ভারত ও চিন উভয়কেই বলছি, সীমান্ত বিতর্ক নিয়ে মধ্যস্থতা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত , ইচ্ছুক এবং সক্ষমও। ধন্যবাদ!’ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের পর ভারতের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। অবশ্য মার্কিন মুলুক অফিসিয়ালি নয়াদিল্লিকে সেই প্রস্তাব পাঠিয়েছে কিনা, তাও স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
তবে আমেরিকার অন্য দেশের ঝামেলার মধ্যে নাক গলানো স্বভাবটা খুবই পুরোনো। এর আগেও কাশ্মীর নিয়ে একাধিকবার মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেক্ষেত্রে ভারত নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছিল, কাশ্মীর ইস্যুতে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির পরামর্শ বরদাস্ত করবে না ভারত। এরপরেও সীমান্ত নিয়ে ভারত-চীনকে আগ বাড়িয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিল মার্কিন মুলুক। আর তাদের এই পদক্ষেপে কিছুটা হতভম্ব হয়েছে কূটনীতি মহল।বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারও দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আমেরিকার এই প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
https://twitter.com/realDonaldTrump/status/1265604027678670848?s=20
কূটনৈতিক মহলের একটি অংশের মতে, চলতি পরিস্থিতির জেরে আমেরিকার মধ্যস্থতার প্রস্তাব নাকচ করে দেবে চিন। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে অবশ্য আমেরিকার ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।আমেরিকা নিজেকে সব সময়ই শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে চায়। আর এখনই তো সুবর্ণ সুযোগ নিজেদেরকে বিশ্বের সবথেকে প্রভাবশালী দেশ হিসেবে প্রমান করার।অন্যদিকে চীনও সারা বিশ্বকে নিজের শক্তি প্রদর্শনে পিছপা হয় না। তাই এই ক্ষেত্রেও আমেরিকাকে নিজের প্রভাবশালী ভাবমূর্তি বজায় রাখতে না দেওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। এমনিতেও চলতি করোনার জেরে পদে পদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনকে অপমান করেছে এবং তার পাল্টা জবাবও চীন দিয়েছে। সম্প্রতি দু-দেশই খোলাখুলি তাদের বিরোধকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরেছেন। পরিস্থিতি এমনি যেখানে চীন জানিয়েছে, ‘ওয়াশিংটনএর কিছু রাজনীতিবিদদের হস্তক্ষেপের জেরেই দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে।’ অন্যদিকে খোদ ট্রাম্পও জানিয়েছেন, চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন না।তারপরও এ হেন ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব ঠিক সুবিধার বলে মনে করছেন না কূটনৈতিক মহল।






