“ও না থাকলে আমি কিছুই নই…যেন আমাকে তুলে নেন ঠাকুর!” ৩৭ বছরের দাম্পত্যে স্বামী সুশীলকে নিয়ে আবেগপ্রবণ রত্না ঘোষাল! কেন এতটা নির্ভরশীল, জীবনের সবচেয়ে বড় ভয় অকপটে কী জানালেন অভিনেত্রী?

দীর্ঘ ৩৭ বছরের দাম্পত্য জীবন পেরিয়েও স্বামী সুশীল দাসের প্রতি ভালোবাসায় এতটুকু বদল আসেনি অভিনেত্রী রত্না ঘোষালের। অভিনয়ের জগতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখ তিনি। তবে পর্দার ব্যস্ততা কিংবা পেশাগত জীবনের পরিচয়ের বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা জুড়ে রয়েছেন সুশীল। সম্প্রতি নিজের সংসার এবং স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি অভিনেত্রী। জীবনের নানা ওঠাপড়ায় সুশীল কীভাবে তাঁর পাশে থেকেছেন, সেই কথাই উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। রত্নার কাছে স্বামী শুধু জীবনসঙ্গী নন, দৈনন্দিন জীবনের একান্ত নির্ভরতার জায়গাও। তাঁর কথাতেই স্পষ্ট, এত বছর পরেও এই সম্পর্কের প্রতি তাঁর টান এবং আবেগ একই রকম রয়েছে।

রত্না জানিয়েছেন, জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুশীলের উপর তাঁর গভীর নির্ভরতা রয়েছে। প্রযুক্তির নানা বিষয় থেকে শুরু করে সংসারের ছোটখাটো সিদ্ধান্ত, অনেক কিছুই স্বামী সামলে দেন বলে জানান তিনি। এই কারণেই সুশীলকে ছাড়া নিজের জীবন কেমন হবে, তা ভাবতেই পারেন না অভিনেত্রী। নিজের এই অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে রত্না অত্যন্ত আবেগপূর্ণভাবে জানিয়েছেন, সুশীল পাশে না থাকলে তিনি যেন একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়বেন। তিনি এমনও মনে করেন, স্বামীকে হারালে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখা তাঁর পক্ষে খুব কঠিন হয়ে যাবে। সুশীলের উপর তাঁর এই নির্ভরতার পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং একসঙ্গে পথ চলার অভিজ্ঞতা। তাই বিষয়টিকে তিনি কোনও দুর্বলতা হিসেবে দেখেন না, বরং তাঁদের সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখেছেন।

স্বামীর প্রতি নিজের অনুভূতি বোঝাতে গিয়ে রত্না জানিয়েছেন, সুশীলকে ছাড়া নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে হয় তাঁর। তিনি বলেছেন, “আমি সুশীলের উপর এতটাই ভরসা করে থাকি যে, ওকে ছাড়া নিজেকে একেবারেই ভাবতে পারি না। আমার জীবনের অনেক কিছুই ও সামলায়, তাই ও না থাকলে আমি খুব অসহায় হয়ে পড়ব।” অভিনেত্রীর এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, সংসারের নানা বিষয়ে সুশীলের উপস্থিতি তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ঈশ্বরের কাছেও তিনি একটি বিশেষ প্রার্থনা করেন বলে জানিয়েছেন রত্না। তাঁর ইচ্ছে, স্বামীর আগে যেন তাঁকেই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হয়। কারণ সুশীলকে ছাড়া বেঁচে থাকার বাস্তব পরিস্থিতি কল্পনা করলেই তিনি ভয় পান। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের সঙ্গীকে হারালে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোও তাঁর কাছে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

৩৭ বছরের এই সম্পর্কে কাজের প্রয়োজনে তাঁদের কখনও দীর্ঘ সময় আলাদা থাকতেও হয়েছে। অভিনয়ের ব্যস্ততার কারণে সবসময় একসঙ্গে থাকা সম্ভব না হলেও দূরত্ব তাঁদের সম্পর্কের জায়গায় কোনও প্রভাব ফেলেনি। বরং সময়ের সঙ্গে তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে বলেই রত্নার বক্তব্যে উঠে এসেছে। সুশীলের যত্নশীল মনোভাব এবং প্রতিদিনের খেয়াল রাখার অভ্যাসকেও তিনি তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম শক্তি বলে মনে করেন। ছোট ছোট বিষয়েও স্বামীর মনোযোগ এবং পাশে থাকার অভ্যাস তাঁকে নিরাপদ বোধ করায়। তাই দীর্ঘ দাম্পত্যের পরেও তাঁদের সম্পর্কে একঘেয়েমি তৈরি হয়নি বলে মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁদের সম্পর্কের এই নির্ভরতা তাঁর কাছে কোনও বাধ্যবাধকতা নয়, বরং দুজনের একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠার ফল।

আরও পড়ুনঃ “গলায় ছিল হীরে বসানো ১২ লক্ষ টাকার সোনার হার, মুহূর্তেই উধাও!” ভিয়েতনামে গিয়ে ছিনতাইয়ের শি’কার অভিনেত্রী প্রীতি বিশ্বাস! বিদেশের মাটিতে ঠিক কীভাবে ঘটল এই ভ’য়ঙ্কর ঘটনা? চুরি’র অভিযোগ জানাতে গিয়ে কোন বিপ’দে পড়লেন অভিনেত্রী ও তাঁর পরিবার?

জীবনের শেষ পর্যন্ত সুশীলের এই সঙ্গ এবং আশ্রয় যেন বজায় থাকে, সেটাই রত্নার সবচেয়ে বড় চাওয়া। স্বামীর উপর তাঁর নির্ভরতার কথা বলতে গিয়ে তাই বারবার ফিরে এসেছে নিরাপত্তা এবং ভালোবাসার প্রসঙ্গ। অভিনেত্রীর কথায়, “সুশীল আমার জীবনের এমন একজন মানুষ, যাঁকে ছাড়া সবকিছু সামলানোর কথা ভাবলেই আমি ভেঙে পড়ি। ও আমার হয়ে অনেক কিছু করে, অনেক কিছু বোঝে, তাই ওকে ছাড়া আমি নিজেকে অসহায় মনে করি।” ৩৭ বছরের পথচলার পরেও সঙ্গীর প্রতি এমন নির্ভরতার অনুভূতিই তাঁদের দাম্পত্যের বিশেষ দিক হয়ে উঠেছে। পর্দায় নানান চরিত্রে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত জীবনে সুশীলই যে তাঁর সবচেয়ে বড় অবলম্বন, তা অকপটে জানিয়েছেন রত্না। তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের সংসারে তৈরি হওয়া গভীর বিশ্বাস এবং পারস্পরিক নির্ভরতার ছবি। স্বামীর সঙ্গে জীবনের এই সম্পর্ক শেষ দিন পর্যন্ত একইভাবে ধরে রাখার আকুতিই তাঁর কথায় সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর