কেন্দ্র না জানিয়ে পরিযায়ীদের পাঠিয়ে দিচ্ছে, সেখানে আমি কেন সব বন্ধ রাখব? কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

শুক্রবার বিকালে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন তাতে মাথায় হাত পড়েছে প্রায় অধিকাংশ মানুষেরই। খুলে দেওয়া হচ্ছে সমস্ত ধর্মস্থান, সেখানে ১০ জনের বেশি একসঙ্গে প্রবেশ করতে পারবেন না। সবথেকে বড় কথা ৮ জুন থেকে খুলে যাচ্ছে ১০০% কর্মী নিয়ে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিস। এছাড়াও প্রতিটা বাসে যে কটা সিট আছে সেই কটা সিট ভর্তি করতে পারবে বাসগুলি এমনটা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি রেগে গিয়ে উত্তর দেন, শ্রমিক এক্সপ্রেসের নামে রাজ্যে করোনা এক্সপ্রেস ঢোকানো হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে রাজ্যে পরপর আসছে ট্রেন। ট্রেন আসছে করোনা হটস্পট মহারাষ্ট্র থেকেও। এভাবে ‘গাদাগাদি করে শ্রমিক রাজ্যে ঢুকছে আর করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তিনি যদি সব খুলে দেন তাহলে আমাদের অসুবিধা কোথায়?

কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘হটস্পট থেকে ট্রেনে কেন গাদাগাদি করে আনা হচ্ছে? মহারাষ্ট্র, চেন্নাই, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি থেকে ট্রেন আসছে। সামাজিক দূরত্ব কেন মানছে না রেল, বাড়তি ট্রেন নয় কেন? অনেকে না খেতে পেয়ে মারাও যাচ্ছেন। শ্রমিক এক্সপ্রেসের নামে করোনা এক্সপ্রেস হয়ে গেছে। তাহলে মন্দির, মসজিদ, গির্জা কী দোষ করল?’

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কেন্দ্র এমন করলে, কেন আমি সব বন্ধ রাখব?’ যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, লোকাল ট্রেন তো বন্ধ তাহলে অফিসে কর্মীরা যারা শহরতলিতে থাকেন, যাঁরা প্রতিদিন লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করে অফিসে আসেন, তারা কী করে আসবেন? তখনও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তর দেন, সেই ব্যবস্থা অফিসকেই করতে হবে, সেই ব্যবস্থা নিজেদেরকে বুঝে নিতে হবে। রাজ্যের হাতে যা আছে বাস-অটো সেগুলো রাজ্য চালাচ্ছে। ট্রেন নিয়ে কেন্দ্র বুঝবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, ধর্মস্থানে গেলেও একসঙ্গে ১০জনের বেশি ঢোকা যাবে না। লকডাউনের নিয়ম মেনেই মন্দির, মসজিদ, গির্জা খুলবে। স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করতে হবে। বড় কোনও উৎসব এখন করা যাবে না। ১লা জুন সকাল ১০টায় মন্দির খোলা হবে।

সেই সঙ্গে ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘ভিন রাজ্য থেকে এলে গ্রামের স্কুলেই কোয়ারেন্টিন করা হবে। ৭দিন রাখার পরে করোনা পরীক্ষা করা হবে। ১০দিন পরে করোনা না পেলে বাড়ি পাঠানো হবে।’

আরও অন্যান্য খবর