বাংলার শহীদদের কম টাকা ক্ষতিপূরণ কেন বাংলার? ওড়িশাকে দেখে শেখার পরামর্শ মমতাকে

সোমবার গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গিয়েছেন কুড়ি জন ভারতীয় জওয়ান। সেই কুড়ি জনের মধ্যে দু’জন ছিলেন বাংলার বীর ছেলে। একজন বীরভূমের রাজেশ ওঁরাও। আরেকজন আলিপুরদুয়ারের বিপুল রায়। অন্যদিকে পড়শি রাজ্য ওড়িশার দু’জন সেনা এই সংঘর্ষে শহীদ হয়েছেন। ‌ওড়িশার কান্ধামাল জেলার বিয়ারপাঙ্গা গ্রামের চন্দ্রকান্ত প্রধান ও রাইরাংপুরের নন্দুরাম সোরেন।

বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুই সেনা পরিবারের জন্য পরিবার পিছু পাঁচ লাখ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এই দুই সেনা পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

এখানেই উঠছে প্রশ্ন। তবে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেনা জওয়ানদের গুরুত্ব দিচ্ছেন না? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামান্য কোন কারণেই কথায় কথায় ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করে থাকেন। রাজ্যে বিষ মদ খেয়ে যারা মারা যায় তাদের জন্যও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করে মমতা সরকার। সেখানে রাজ্যের দু’জন বীর সেনা জওয়ান যাদের বয়স খুবই কম তাঁরা এত বড় একটা লড়াইয়ে শহীদ হল তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ মূল্য মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা? যেখানে পড়শি রাজ্য ওড়িশা পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছে সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে‌ সেখানে মমতা সরকার মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা দিচ্ছে পরিবার পিছু? রাজ্যের কাছে সেনাবাহিনী জওয়ানদের গুরুত্ব কি এতটাই কম? বিরোধীদের দাবি যে, রাজ্যের ক্লাবগুলো প্রতিবছর লক্ষাধিক টাকা করে অনুদান পায়। রাজ্যের যেকোনো মেলা হলেই সরকারের তরফে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়। সারাবছর দান-খয়রাতি করেই দিন কাটে তৃণমূল সরকারের। সেখানে শহীদ সেনা জওয়ানের পরিবারপ্রতি মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা?

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে, ওড়িশা নিজের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে টাকাটা দিচ্ছে। যেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে করোনা ও আমফানের কারণে এত টাকা অনুদান জমা পড়েছে সেখান থেকে কি আরো বেশি পরিমাণ টাকা এই দুই পরিবারের জন্য দেওয়া যেত না?

বিরোধীরা বলছেন, তৃণমূল নেতারা তো কাটমানি খেতেই ব্যস্ত থাকেন বছরভর। এমনকি কেন্দ্রের দেওয়া আমফান ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টাকাও নয়ছয় করেছে তৃণমূল। তাদের রাজ্যের বাসিন্দা সেনাকর্মীর জন্য এত মাথাব্যথা থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। এবার মমতার ওড়িশাকে দেখে একটু শেখা উচিত বলেই মনে করছেন রাজ্যবাসীদের একাংশ।

RELATED Articles

Leave a Comment