ভাগ্যের ফেরে কখনো মানুষ হয় রাজা আবার কখনো ফকির। জীবন কোন সময় কি বাঁকে ঘুরে যাবে সেকথা কেউ জানে না। তাই একজন ক্রিকেট বিশ্বকাপের অধিনায়ক আজ লোকচক্ষুর আড়ালে, কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। এই ঘটনা বারবার প্রমান করে দেয় সময়ের কাছে আমরা নিছকই একটা পুতুল। আর সেখানে প্রতিটি মানুষ সমান। শুধু যে আমরা সাধারণ মানুষ বলে আমাদের জীবনে দুঃখ আসে, বিপর্যয় আসে তা কিন্তু নয়, বহু তারকাদের জীবনও সময়ের স্রোতে আজ ফল্গুধারার মতো অদৃশ্য হয়েছে। এরকম কত খ্যাতনামা মানুষ আমাদের মাঝখান থেকে হারিয়ে গেছেন। তাদের খবর কেই বা রাখে আজকাল। তাই এরকমই একজন হারিয়ে যাওয়া ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব-এর গল্পই আপনাদের জানাব, যার বর্তমান পরিস্থিতি জানলে আপনার জীবনের অনেক খারাপ দিনগুলিকে তুচ্ছ মনে হবে।

জন্মসূত্রে দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও আমাদের গল্পের নায়কের মনোবল কিন্তু কোনো অংশেই কম ছিল না তাই ওই প্রতিবন্ধকতা তাঁর প্রতিভার সামনে কোনোদিন অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। নিজের আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে অনেক দূর এগিয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে কৃষক বাবার মতো তাঁরও পেশা হয়ে দাঁড়ালো গরু চড়ানো।

সালটা ১৯৯৮, দৃষ্টিহীনদের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব-এর দায়িত্বে ছিলেন বালাজি। ব্যাট ও বল হাতে তার দুর্দান্ত প্রদর্শনে মুগ্ধ হয়েছিল সমস্ত দর্শকবৃন্দ। তবে ওই বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সেমিফাইনালে পরাজিত হয় ভারত।

১৯৯৮-এর ব্লাইন্ড বিশ্বকাপে ধুঁকতে থাকা এক ভারতীয় ব্লাইন্ড ক্রিকেট দলকে নিয়ে গেলেন সেমিফাইনাল পর্যন্ত। এমনকি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কে.আর নারায়ানান পর্যন্ত তার খেলায় মুগ্ধতা প্রকাশ কবলেন। তারপর কেটে গেছে অনেকটা সময়। আজ তিনি অন্তরালে হারিয়ে যাওয়া এক নক্ষত্র। তবে তার নামের পাশে সর্বোচ্চ উইকেট টেকার কথাটি এখনো জ্বল জ্বল করছে। মনে পড়েছে নামটা? বালাজি ডামোর। তবে বালাজি সে সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি কে. আর নারায়ণের কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়ার পর ভেনেছিলেন, এতটা এগিয়ে যখন বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় পৌঁছেছেন তখন একটা চাকরিও জুটে যাবে তার।কিন্তু সেখানে ভাগ্যের মারে তার সমস্ত আশা চূর্ণ হল। তারপর তিনি ফিরে গেলেন তার পৈতৃক পেশায়। মাঠে নেমে গরু চরানোর কাজে নেমে পড়লেন।

শুধু কি সময় তার সাথে অবিচার করেছে? নাকি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনও তাকে বিস্মৃতির অন্ধকারে ধাক্কা দিয়েছে । সেই ১৯৯৮ এর ব্লাইন্ড ক্রিকেট বিশ্বকাপের নজির সৃষ্টিকারীকে এই প্রজন্ম আর চেনে না।
তবে এখন কেমন আছেন বালাজি? তার ঠিকানা কি?বালাজি এখন মধ্যবয়সী, বয়স ৩৮। ক্ষীণকায় শরীর, তবুও ক্রিকেটিও বিভঙ্গি। এখন কৃষক পরিবারে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে তার জীবন। ক্রিকেটের অনন্য প্রতিভা এখন চাষ কাজ আর গরু ছড়িয়ে জীবন নির্বাহ করছেন।
বর্তমানে গুজরাটের একটি গ্রামে তার বাস। আজও এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার নিজের খেলার দিনগুলির কথা ভুলতে পারেন নি। সেই সময় বালাজি ডামোর প্রত্যাশা করেছিলেন, হয়তো তাকে একটি চাকরি দেবে সরকার।তাতে সমস্ত কষ্ট ঘুচবে, ভাগ্য ফিরবে। কিন্তু না সেদিন আর আসেনি। আজও জীবনের সাথে তার অবিরাম সংগ্রাম জারি রয়েছে। তবে তিনি দারিদ্রতার প্রখরতার মধ্যেও দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সাথে লড়াই করছেন। তার লড়াই আগামীদিনের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা।





