অরূপ হারতেই বি’স্ফোরক কলকাতায় মেসি আয়োজনের মাথা শতদ্রু দত্ত! তোর খেলা শেষ আমার খেলা শুরু হু’ঙ্কার দিলেন তিনি

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের উত্থান এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় নিয়ে শুরু হয় নতুন আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ফলাফলকে ঘিরে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে হঠাৎ করেই উঠে আসে লিওনেল মেসির প্রসঙ্গও। কেউ কেউ মন্তব্য করতে থাকেন, “সরকার ফেলে দিলেন মেসি।” এই আবহে আরও একবার আলোচনায় আসেন মেসিকে ভারতে আনার সঙ্গে যুক্ত শতদ্রু দত্ত। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরেই তিনি একাধিক স্টোরি পোস্ট করেন। তার পোস্ট ঘিরে নতুন করে শুরু হয় রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে চর্চা।

নির্বাচনী ফলাফলে টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস। বিজেপির পাপিয়া অধিকারীর কাছে হার মানতে হয় তাঁকে। এই ফল প্রকাশের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন শতদ্রু দত্ত। তিনি অরূপ বিশ্বাসের ফলাফল এবং পাপিয়া অধিকারীর জয়ের ছবি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে তিনি লেখেন, “খেলা শেষ তোমার, এবার আমার শুরু।” এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় নতুন বিতর্ক এবং রাজনৈতিক আলোচনার ঝড়। একই সঙ্গে পুরনো মেসি-কাণ্ডও আবার সামনে আসে। অনেকে এই মন্তব্যকে প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেন রাজনৈতিক পরিসরে। উল্লেখ্য, আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি কলকাতায় আসার সময় ঘটনাপ্রবাহ ব্যাপক আলোচনায় আসে।

তখন অরূপ বিশ্বাস ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী পদে। ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির উপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। স্টেডিয়ামে প্রচুর মানুষ ঢুকে পড়েন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মেসির সঙ্গে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায় উপস্থিতদের মধ্যে। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় দ্রুত মাঠ ছাড়েন মেসি। এরপর স্টেডিয়ামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এই ঘটনার পর আয়োজক শতদ্রু দত্তকেও জেল পর্যন্ত যেতে হয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পান শতদ্রু দত্ত। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হন। তিনি লেখেন, “তুমি আমাকে বলির পাঁঠা করেছো।

কিন্তু ঈশ্বর রয়েছেন।” আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, “বিশ্বাস রাখো, শেষ কথা বলবেন ঈশ্বর।” এর পাশাপাশি তিনি একটি ছবি পোস্ট করেন যেখানে অরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, “সাদা কুর্তা পরিহিত ব্যক্তিটি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস, যিনি তাঁর লোকজনের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মেসিকে চাপ দিচ্ছেন। আর কালো হুডি পরা লোকটা আয়োজক যাকে দৃশ্যতই মনে হচ্ছে অসন্তুষ্ট।” এই পোস্টগুলি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া। আরও এক পোস্টে শতদ্রু দত্ত লেখেন, “কর্মা।

প্রতিশোধ নেওয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই। কেবল অপেক্ষা করে থাকো। যারা একদিন তোমাকে আঘাত করেছিল, নিজেদের কাজে তারাই একদিন বিপন্ন হবে। আর তুমি যদি ভাগ্যবান হও তাহলে ঈশ্বরের দয়ায় সেই দিন তুমি দেখতে পাবে।” অন্য একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “ক্ষমা নাকি ভুলে যাব? আমি প্রভু যিশু নই আবার আমার অ্যালঝাইমার্সও হয়নি।” এছাড়াও একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশটও তিনি শেয়ার করেন। সেখানে একজন ক্যাপ্টেন পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি নির্বাচনী ফল নিয়ে মন্তব্য করেন এবং পুরনো ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি লেখেন, “আমার মতে আজ তোমার জয়ের দিন।

আরও পড়ুনঃ নোটা-র কাছে হার, BSP-র কাছে পিছিয়ে CPI, ছোট দলগুলির এই ফল কি বড় প্রশ্ন তুলছে বাম রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে, নাকি এটাই নতুন ভোট ট্রেন্ড বাংলায়?

আমিও কর্মা-তে আস্থাশীল। আমি তোমাকে ভুলিনি। পেশায় আমি জাহাজের ক্যাপ্টেন। এখন জাহাজের কাজের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল দেখছি আর তোমার কথা মনে পড়ছে। কীভাবে তোমাকে ফাঁসানো হয়েছিল? আমি আজ খুব খুশি। যেমন কর্ম, তেমন ফল। তুমি নিজেও বুঝতে পারবে না কখন তোমার দরজায় এসে কখন কড়া নেড়ে যাবে। মেসিকে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে ওভাবে অসম্মান করা….।” এই সমস্ত পোস্ট ঘিরে ফের আলোচনায় আসে মেসি-কাণ্ড। পুরনো ঘটনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক ফলাফল মিলিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয় রাজ্যে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর