পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল শুধু আসন সংখ্যা নয়, ভোটের শতাংশের দিক থেকেও একাধিক চমক সামনে এনেছে। বড় দলগুলির পাশাপাশি ছোট দলগুলির প্রাপ্ত ভোট এবং নোটা-র সংখ্যা ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। বিশেষ করে বাম শিবিরের ভেতরের অবস্থান এবং অন্যান্য ছোট দলের পারফরম্যান্স এই নির্বাচনে আলাদা করে নজর কেড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে বহু ছোট দলের মধ্যে চমক দিয়েছে বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)। রাজ্যের ১৫২টি আসনে লড়ে বিএসপি মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ১৬৬টি ভোট পেয়েছে, যা শতাংশের নিরিখে ০.১৮ শতাংশ। অন্যদিকে, একসময় রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী বাম দল সিপিআই এবারে পেয়েছে ৯৯ হাজার ২২৩টি ভোট, যা শতাংশের হিসেবে একই থাকলেও মোট ভোটের সংখ্যায় বিএসপির থেকে পিছিয়ে পড়েছে। এই ফলাফল অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ।
বামফ্রন্টের অন্যান্য শরিকদের অবস্থাও খুব একটা শক্তিশালী নয়। ফরওয়ার্ড ব্লক পেয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮০টি ভোট (০.২৮ শতাংশ) এবং আরএসপি পেয়েছে ৬৪ হাজার ২০৯টি ভোট (০.১০ শতাংশ)। অন্যদিকে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন, যারা এইবার বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে লড়েছিল, তারা পেয়েছে মাত্র ৪৬ হাজার ৩৯৯টি ভোট (০.০৭ শতাংশ)। এই সংখ্যা নোটার থেকেও কম হওয়ায় তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই নির্বাচনে নোটা-র ভূমিকা বিশেষভাবে নজরে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে নোটায় ভোট পড়েছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৩২টি, যা শতাংশের হিসেবে ০.৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ, বহু ভোটার কোনও দলকেই পছন্দ না করে নোটাকে বেছে নিয়েছেন। এমনকি একাধিক ছোট দল ও প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের থেকেও নোটার সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ওঁর আত্মা যেন শান্তি পায়’ কাছের মানুষকে হারিয়ে গভীর শোকে অমিতাভ বচ্চন! আবেগঘন বার্তায় উঠে এল হৃদয়ভাঙা স্বীকারোক্তি, সাড়া নেটমাধ্যমে!
এদিকে বড় দলগুলির ভোট শতাংশেও স্পষ্ট ব্যবধান দেখা গেছে। বিজেপি এই নির্বাচনে পেয়েছে ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটের হার ৪০.৮০ শতাংশ। আসনের হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন এবং একটি আসনে এগিয়ে থাকলেও তার ফলাফল এখনও ঘোষণা হয়নি। অন্যদিকে সিপিএম পেয়েছে ৪.৪৫ শতাংশ ভোট এবং কংগ্রেস পেয়েছে ২.৯৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে এই নির্বাচনের ভোটের হিসাব বলছে, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি ছোট দলগুলির অবস্থান ও ভোটারের মানসিকতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।






