‘মৌন’ মোদী, বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকার প্রচ্ছদ ঘিরে বিতর্ক

ক্লোজআপে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখ, সাদাকালো ছবিতে তাঁর মুখে একটি লাল রঙের মাস্ক পরানো। মাস্কটি চীনের পতাকা অনুকরণে বানানো। উপরে লেখা একটি শব্দ ‘মৌন’। বাংলার বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘দেশ’ এর এই মাসের প্রচ্ছদে দেখা গেল এই ছবিটি। যা প্রশ্ন তুলেছে ওই পত্রিকার নৈতিকতা নিয়ে।

'মৌন' মোদী, বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকার প্রচ্ছদ ঘিরে বিতর্ক

২রা জুলাই যখন পত্রিকাটি সর্বসমক্ষে আসে সেই সময়ে হালকা গুঞ্জন শুরু হয় যে, এই কাজটা কি ঠিক হল? সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় এই ছবি নিয়েই উঠেছে বিতর্কের ঝড়। গোটা নেটদুনিয়া দু’ভাগে বিভক্ত। একদল বলছে সাহস আছে বটে পত্রিকার। ‘সত্যি’ কথাটা এইভাবে প্রকাশ করতে ধক লাগে বৈকি! যদিও আরেক দল বলছে যে, নিজের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এইভাবে সর্বসমক্ষে অপমান করাটা উচিত হয়নি বাংলার এই বিখ্যাত পত্রিকার। এতে বাইরের দেশের মানুষের কাছে নিজেদেরকেই হেয় করা হল। দ্বিতীয় দলটি অবশ্য লোকসংখ্যায় ভারি।

'মৌন' মোদী, বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকার প্রচ্ছদ ঘিরে বিতর্ক

এই দলের মানুষরাই বলছেন যে, সত্যিই কি প্রধানমন্ত্রী চীনের ব্যাপারে মৌন? উনি কি সত্যিই চীনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি? ৫৯টি চীনা অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করা, বিএসএনএল এমটিএনএল-এর মত কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় চীনা যোগাযোগ বন্ধ করা, এগুলো কি কোনও কড়া পদক্ষেপ নয় লালফৌজের দেশের বিরুদ্ধে? উনি সরাসরি যুদ্ধের বদলে ঘুরপথে চীনকে শিক্ষা দিচ্ছেন, চীনকে হাতে নয় ভাতে মারতে চাইছেন, সেটা কি এই পত্রিকার মালিক-সম্পাদক কেউ বুঝতে পারেননি? প্রশ্ন করছেন অধিকাংশ নেটিজেনরা।

'মৌন' মোদী, বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকার প্রচ্ছদ ঘিরে বিতর্ক

তারা এই ভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদের অবমাননা করাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা এও বলছেন যে, বাকস্বাধীনতার নামে কোনও সংবাদমাধ্যম (একটি বেসরকারি নামকরা সংবাদমাধ্যম ওই পত্রিকার মালিক) দেশের প্রধানমন্ত্রী পদকে এইভাবে অপমান করতে পারে না। একটি সাহিত্য পত্রিকা হয়ে কীভাবে দেশ দেশের প্রধানমন্ত্রীর এইরকম একটি কদর্য রূপ প্রকাশ করে দ্বেষ সৃষ্টি করতে চাইছে ভারতীয়দের মধ্যে তা নেটিজেনদের একাংশ বুঝতে অক্ষম।

RELATED Articles

Leave a Comment