চূড়ান্ত সেমেস্টারের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসতে হবে না, ইউজিসিকে চিঠি দেবেন উপাচার্যরা

পশ্চিমবঙ্গের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল সেমেস্টারের ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় না বসার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানিয়ে দিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। কারণ ইতিমধ্যেই পুরনো নির্দেশিকা অনুযায়ী মূল্যায়ন প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। সেখানে ইউজিসির নয়া গাইডলাইন মেনে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া কোন ভাবেই সম্ভব না। আর এই কথা ইউজিসিকে জানিয়ে চিঠি দেবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যরা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ ভাইস-চ্যান্সেলর কাউন্সিলের একটি বৈঠক হয়। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকে ইউজিসির সর্বশেষ নির্দেশিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এরপর একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে এই বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যরা আলাদা আলাদাভাবে ইউজিসির নয়া গাইডলাইন না মানার কারণ জানিয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যানকে চিঠি দেবেন। রাজ্য সরকার পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের জন্য এর আগে ২৯শে এপ্রিল ইউজিসির যে গাইডলাইন জারি করা হয়েছিল তা মেনে চলবে এবং রাজ্য উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরবর্তী উপদেশ অনুসরণ করবে।

রাজ্য উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে সর্বশেষ সেমেস্টারের গড়, হোম অ্যাসাইনমেন্ট এবং চূড়ান্ত সেমেস্টারের শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এর উপর ভিত্তি করে ফলাফল প্রকাশের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের জন্য রাজ্য সরকার পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এই সূত্রটি সার্বিক ভাবে অনুসরণ করছে। এই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই মূল্যায়ন প্রায় শেষের পথে।

কলকাতার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন যে, “আমরা কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের পরামর্শ অনুসরণ করার মত অবস্থাতেই নেই। আমরা ইতিমধ্যেই মূল্যায়ন প্রায় শেষ করে ফেলেছি এবং এই মাসের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনওভাবেই ক্যাম্পাসের কোনওরকম কার্যক্রম শুরু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”

উচ্চশিক্ষায় স্কুল শিক্ষা বিভাগের প্রধান সচিব মণীশ জৈন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে একটি চিঠি দেন যাতে মন্ত্রক শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নেন উপাচার্যরা। জৈন বলেছেন, নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক না করে রাজ্যকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অনুমতি দেওয়া উচিত।

RELATED Articles

Leave a Comment