পুলওয়ামার ধাঁচে ফের জম্মু-কাশ্মীরে হতে পারে সন্ত্রাসবাদী হামলা। এমনই সম্ভাবনার কথা জানিয়ে সতর্ক করল ইন্টেলিজেন্স। হামলার আশঙ্কা রয়েছে উত্তর ও মধ্য কাশ্মীরে। সূত্র বলছে, ভারতীয় সেনার কাছে এমনই খবর পৌঁছেছে। এই হামলার ছক কষছে লস্কর-এ-তৈবা। শ্রীনগর-বারামুলা জাতীয় সড়কে হতে পারে এই হামলা। তবে এই হামলাকে পুলওয়ামার চেয়েও আরও বড় রূপ দিতে সচেষ্ট সন্ত্রাসবাদীরা।
শ্রীনগরের বাইরের দিকে বারামুলার পাত্তান এলাকায় গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা রয়েছে সন্ত্রাসবাদীদের। ভারতীয় সেনার কাছে খবর, রহমান ভাই নামে এক বিদেশির মদত নিয়ে এমনই হামলার ছক পরিকল্পনা করেছে লস্করের সন্ত্রাসবাদীরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে রেইকি করার পাশাপাশি কবে, কখন এবং কী ভাবে হামলা চালানো হবে তাও মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছে। এমনকী সন্ত্রাসবাদীদের যাতায়াতের জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সেনা।
এমন খবর কানে আসতেই নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো হয়েছে উপত্যকা জুড়ে। পাত্তান এলাকায় জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। বিশেষ ভাবে নজরদারি চালানো হচ্ছে সোপোর ও হান্দওয়াড়া এলাকাতেও। এক অফিসার জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদীরা ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ এবং হামলাকে মারাত্মক রূপ দিতে চলন্ত গাড়িতে আইইডি বিস্ফোরণের ছক কষেছে।
জাতীয় সড়কে সেনাদের কনভয় যাওয়ার আগে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেনার রোড ওপেনিং পার্টিকে আরও বেশি সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটা মুহূর্তে চেকিং জরুরি করা হয়েছে। একটিও গাড়ি কোথাও যাওয়ার আগে সেই রাস্তাজুড়ে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেলিনা বারামুলার কলোনি এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই একটি অলটো গাড়ি চুরির ঘটনা জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিদেশি পর্যটকদের এ কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। সেই গাড়ির খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। সেই গাড়িতেই হামলা হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেনার কথায়, গত কয়েকমাস ধরে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছে সমস্ত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি। এর প্রধান কারণ করোনাভাইরাসের মহামারী। এবং তার জেরে লকডাউন। এর পাশাপাশি প্রায় ১২৪ জন সন্ত্রাসবাদীকে গত কয়েক মাসে খতম করেছেন সেনা। এ বছরের জানুয়ারি থেকে শীর্ষ নেতারাও ধরা পড়েছে এবং মারা গিয়েছে একাধিক। প্রায় ৫০ জন সন্ত্রাসবাদীকে সেনা খতম করেছে উত্তর কাশ্মীরেই।





