আজ সকল রামভক্তদের কাছে খুব আনন্দের মুহূর্ত। আজ বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রামমন্দিরের ভুমিপুজোর দিন। সেই অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজকে রাম মন্দিরের পুজো শেষ হওয়ার পর অযোধ্যায় উপস্থিত সকল আমন্ত্রিতদের উদ্দেশ্যে মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই বলেন, “আমার সঙ্গে আগে প্রভু রাম ও দেবী জানকীর নাম উচ্চারণ করুন তারপর বাকি কথা। জয় শ্রী রাম।”
সকলেই তাঁর সাথে উচ্চস্বরে জয়ধ্বনি করেন। এরপর তিনি বলেন, “আজকের এই রামনাম শুধু এখানেই নয় সারা বিশ্বজুড়ে হচ্ছে। সারা পৃথিবীতে আজ কোটি কোটি ভক্তকে রামমন্দিরের ভুমিপুজোর শুভেচ্ছা জানাই।” পাশাপাশি তাঁকে এই ভূমিপুজোর সুযোগ দেওয়ার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটা আমার সৌভাগ্য যে শ্রীরামজন্মক্ষেত্র ট্রাস্ট আমাকে এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার এবং অংশ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি তাঁদের মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আর আমাকে তো এই পূজায় সামিল হতে আসতেই হত।”
তিনি সমস্ত ভক্তদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আজ দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। কত মানুষ হয়তো এখনো বিশ্বাসই করে উঠতে পারছেন না তাঁরা কি দেখছেন বা তাঁরা কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হলেন।”
মোদী আরও বলেন, “ভারত আজ সরযূর তীরে আবার ভগবানের সান্নিধ্য পেল। তাঁর আশীর্বাদে নতুন ইতিহাস গড়ল। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র ভারত আজ রামনামে মুখরিত। আজ সমস্ত দেশবাসী রামনামে আবেগময়।”
তিনি এই রাম মন্দিরের সাথে জড়িত মানুষের অবদানকে স্মরণ করে বলেন, “আমাদের দেশ যখন ২০০ বছর ব্রিটিশদের সাথে বন্দী ছিল তখন দেশকে স্বাধীন করতে কতশত মানুষ তাঁদের জীবনকে সমর্পণ করে দিয়েছেন। কত প্রজন্মের পর প্রজন্ম এর অপেক্ষা করছেন। আমাদের স্বাধীনতা তো আর একদিনে আসেনি! তেমনি আজকে এই রামমন্দিরের শিল্যান্যাসের জন্যও বহু প্রজন্মকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। কত মানুষ এই দিনটি দেখার জন্য কত বলিদান দিয়েছেন। আজকের দিন সেইসব মানুষের প্রচেস্টা, ইচ্ছা ও ত্যাগেরই ফল।”
বহু বছরের প্রচেষ্টার পর অবশেষে আজ রামমন্দিরের সেই ঐতিহাসিক সূচনার দিন উপস্থিত। আজ কিছুটা আবেগী হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বহু বছর ধরে আমাদের রামলালা তাঁর বাসস্থান ছেড়ে তাঁবুতে থেকেছেন। আজ তাঁর জন্য মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হল। রামের অস্তিত্ব মেটানোর বহু চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু তিনি আমাদের হৃদয়ে আছেন। এ যেন পড়ে গিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। আজ থেকে ভারতে রামমন্দিরের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।”






