বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বারবারই পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রশাসনকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের দুর্নীতিগ্রস্ত, শাসকদল তৃণমূলের অনুগত বলেও বিঁধেছেন।
আর এবার সেই ধারা বজায় রেখে, তৃণমূলের বিতর্কিত নেতা অনুব্রত মন্ডলের গড়ে বসে বুধবার সকালে বীরভূমের সিউড়িতে চা চক্রে পশ্চিমবঙ্গকে কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনা করলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আক্রমণ শানালেন বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের বিরুদ্ধেও। বললেন ওঁরা ‘তৃণমূলের দলদাস’।
সকালে উত্তপ্ত চায়ে চুমুক দিতে দিতে বাংলার পুলিশ–প্রশাসনের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত অভিযোগ করেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, ‘যে জেলার পুলিশ সুপার, জেলাশাসক তৃণমূলের অফিসে বসে জ্ঞান শোনেন, তাঁদের কাছ থেকে আর কী–ই বা আশা করা যেতে পারে। তাঁরা রাজনৈতিক দলের কর্মীর মতো ব্যবহার করছেন।’
নিজের অভিযোগে তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের পার্টি অফিসে বসে থাকেন পুলিশ সুপার, জেলাশাসকরা। তৃণমূলের দলদাস হয়ে পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ প্রশাসনিক কর্তারা কাজ করছেন।
সামনেই বিধানসভা ভোট। জোর কদমে চলছে শাসক-বিরোধী দুই দলেরই প্রস্তুতি। গরমা গরম বাক্য আক্রমণে রাজ্য বিজেপি সভাপতির কটাক্ষ, ‘থানার ওসি–রা তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হয়ে গিয়েছেন আর পুলিশ সুপাররা হয়ে গিয়েছেন জেলা সভাপতি। যদি কোনও পুলিশ সুপার দলের কথা না শোনে, তাঁদের ৬ মাসের মধ্যে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এখানে শাসকদেলর তাবেদারি করতে হবে। আর এর বিরুদ্ধে বীরভূমের লোকজন পরিবর্তন চাইছেন। আর তা করে দেখাবে বিজেপি।’
পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় কাশ্মীর হয়ে গিয়েছে, পুলিশ সুপার, জেলাশাসকরা তৃণমূলের দলদাস— বুধবার সকালে একের পর এক মন্তব্যে রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করলেন রাজ্য বিজেপি–র সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
ভোটের বাজারে সব দলই নেমে পড়েছে একে অপরের কথার পাল্টা জবাব দিতে। দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের পাল্টা বক্তব্যে সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘এ সব তো দিলীপ ঘোষ বলছেন না। দিলীপ ঘোষ আসলে মাইক্রোফোন। এর পিছনে রয়েছে বিজেপি–র আইটি সেল, অমিত মালব্য, কৈলাস বিজয়বর্গীয়র মতো মস্তিষ্করা। এদিকে, তৃণমূলে সকলকে কী বলতে হবে তা বলছেন প্রশান্ত কিশোর।





