মাসের প্রথম দিনেই বড় ধাক্কা খেল শহর কলকাতা সহ গোটা দেশের সাধারণ মানুষ। নতুন করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির খবরে ইতিমধ্যেই চাপে পড়েছে বাজার। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা, বিশেষ করে যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি, এই সব কিছুর প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে দৈনন্দিন জীবনে। আর তারই জেরে মে মাসের শুরুতেই এল এক অস্বস্তিকর খবর, যা আগামী দিনে সাধারণ মানুষের খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতি মাসের শুরুতেই তেল বিপণন সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দামের উপর ভিত্তি করে দেশের জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে। গত কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উত্তেজনা বেড়েছে, বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ক্রুড তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গিয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র একদিনেই প্রায় ১.৯৬ শতাংশ দাম বেড়েছে বলে জানা গেছে। এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি বাজারে।
এই প্রেক্ষাপটেই সামনে এসেছে সবচেয়ে বড় ধাক্কার খবর, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৯৯৪ টাকা বেড়ে গেছে। ফলে কলকাতায় এই সিলিন্ডারের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৩২০২ টাকা, যা আজ ১ মে থেকেই কার্যকর হয়েছে। একসঙ্গে এত বড় অঙ্কে দাম বৃদ্ধি হওয়ায় ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সকলের মধ্যেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, গৃহস্থালির জন্য ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আপাতত ৯৩৯ টাকাতেই স্থির রাখা হয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তির খবর।
তবে এই স্বস্তি খুব বেশি দিন টিকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ বাণিজ্যিক গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলবে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলির উপর। তারা বাধ্য হয়ে খাবারের দাম বাড়াতে পারে, যার বোঝা শেষমেশ সাধারণ মানুষের উপরই পড়বে। অর্থাৎ, গৃহস্থের সিলিন্ডারের দাম না বাড়লেও, দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট।
আরও পড়ুনঃ জনসেবার নামে, কার পকেটে ঢুকল কত? নির্বাচনী প্রচারের পিছনে টলিউড তারকাদের মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক, শুভ্রজিৎ মিত্রর চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ধাপে ধাপে বাড়ছে। জানুয়ারিতে প্রায় ৪৯ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধি, ফেব্রুয়ারিতে আরও ৩১ টাকা, মার্চে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা এবং এপ্রিল মাসে ২১৮ টাকা দাম বেড়েছিল। সেই ধারাবাহিকতারই চরম রূপ দেখা গেল মে মাসে, যখন একলাফে প্রায় এক হাজার টাকা বেড়ে গেল দাম। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে বাজারদর কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে এখনই চিন্তায় সাধারণ মানুষ।





