“বাংলায় অরাজকতা বেশিদিন চলবে না”! মমতা সরকারকে বিদায় জানিয়ে বাংলায় পদ্ম ফোটানোর আশ্বাস নাড্ডার

বাংলায় পা রাখার পর থেকেই তাকে একের পর এক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আজও ডায়মন্ড হারবারে যাওয়ার পথে বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়কে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় পাথর। এদিন কর্মীসভাতে পৌঁছেই মমতা সরকারকে একহাত নিলেন নাড্ডা। বললেন, বাংলায় গুন্ডারাজ ও অরাজকতা শেষ হয়ে খুব শীঘ্রই ফুটবে পদ্ম।

এদিন ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে তীব্র বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। জে পি নাড্ডার গাড়ি লক্ষ্য করে শুরু হয় ইটবৃষ্টি। এর জেরে একাধিক বিজেপি নেতার গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। গাড়ির কাচ ভাঙে একাধিক সংবাদমাধ্যমের গাড়িরও। ইটের ঘায়ে আহত হন মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়-সহ একাধিক বিজেপি নেতা। আহত হয়েছেন একাধিক নিরাপত্তাকর্মী ও সাংবাদিকও।

সভা শুরুর প্রথমেই মমতা সরকারকে তীব্র ভাষায় তোপ দাগেন নাড্ডা। বলেন, “পথে আমি যে দৃশ্য দেখেছি তাতে স্পষ্ট বুঝেছি যে মমতার শাসনে বাংলা অরাজকতা ও অসহিষ্ণুতার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। মা দুর্গার আশীর্বাদে আমি আজ এখানে পৌঁছতে পেরেছি। তৃণমূল কর্মী ও গুন্ডারা গণতন্ত্রের গলা টিপতে কোনও কসুর করে নি। কিন্তু এই অরাজকতা আর বেশিদিনের নয়। মমতাদি আপনার সরকারের বিদায় হতে চলেছে, বাংলায় পদ্মফুল ফুটতে চলেছে”।

এরই সঙ্গে তিনি বাংলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ডাক দেন। তাঁর কথায়, “আমি অকারণে জঙ্গলরাক বলছি না। কৈলাসজি, রাহুলদার গাড়ি দেখুন আপনারা। আমি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছি। এমন কোনও গাড়ি নেই যার ওপর হামলা করেনি। এই গুন্ডারাজ ভেঙে তছনছ করে এখানে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে”।

আক্রমণ শানিয়ে নাড্ডা বলেন যে বিরোধীকে পিষে মারার চেষ্টা করছে শাসকদল। গেরুয়া শিবির তাদের এই মতাদর্শকেই পিষে মেরে ফেলবে বলে হুংকার দেন নাড্ডা। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, মমতার শাসনে বাংলার সংস্কৃতি অধঃপতনে গিয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন যে, যে তাকে তুই-তোকারি ভাষা শিখিয়েছিলেন, রবীন্দ্রনাথ নাকি অরবিন্দ?

বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবারের সভা শেষ করে জেলার ব্লক সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক সারেন নাড্ডা। এরপর তিনি সরিষা রামকৃষ্ণ মিশনের দিকে রওনা দেন বলে জানা গিয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর