বিধানসভা ভোট এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দের দিকটি বেশ পরিষ্কার হয়ে উঠছে। একের পর এক তৃণমূল নেতা-বিধায়করা সুর চড়াচ্ছেন দলেরই বিরুদ্ধে। এবার ফের একবার দলের একশ্রেণির নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তৃণমূলের বিদায়ী কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস।
তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কলকাতা পুরনিগমের ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর তথা কো-অর্ডিনেটর জুঁই বিশ্বাস বলেন দলের কর্মীদের জন্যই জিতে নেতা-মন্ত্রী হন। কর্মী ছাড়া দলের মন্ত্রীদের কোনও মূল্য নেই। এরপরই দলের একশ্রেনির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমফানের পর তো বাড়ি থেকেই বেরোতে পারেন নি, পাছে লোকজন মারে। লজ্জা করে না নোংরা রাজনীতি করতে? এই বছর আমি পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি, আমি কারোর জন্য ভোট চাইতে বেরবো না। যে নেতা ভোটের আগে আসেন, ভোটের আগে ছ’মাস-একবছর তাদের দেখা যায়, আর ভোট চলে গেলেই যে কর্মীরা তাদের জিতিয়েছেন, তাদের সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন বোধ করেন না, তাদের জন্য ভোট চাইতে যাব না আর। ভোট এলেই শুদু বোঝাপড়া করতে চলে আসেন”।
দিনের পর দিন এক একজন তৃণমূল নেতা-কর্মী ‘বেসুরো’ সুর চড়াচ্ছেন দলের বিরুদ্ধে। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বেশ কিছু ‘বিদ্রোহী’ নেতা-মন্ত্রীদের বোঝানো সম্ভব হয়নি তৃণমূলের পক্ষে। এই পরিস্থিতিতে জুঁই বিশ্বাসের মতো প্রভাবশালী প্রার্থীর এই ক্ষোভ প্রকাশ, স্বভাবতই ভাঁজ ফেলেছে দলের অন্দরে।
ওই ভিডিওতে জুঁই আরও বলেন যে, তিনি অনেক সহ্য করে আজ এই কথা গুলো বলছেন। তিনি এর আগে কখনও দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তাঁর দাবী, আজ যারা তাঁকে গালিগালাজ করছেন, তাঁরাও বিশ্বাস পরিবারের থেকে অনেক সুযোগ নিয়েছেন। অরূপ বিশ্বাস না থাকলে অনেকেরই বাড়ি হত না বলে তাঁর দাবী। এরপর তিনি হুঁশিয়ারি শানিয়ে বলেন যে, তিনি সব হিসেব বুঝে নেবেন। আর মাত্র চার-পাচমাস বাকী, এরপর কে কোথায় আদৌ থাকবেন, তা দেখে নেওয়ার দায়িত্ব তাদেরই। এই কথার মধ্যে দিয়ে যে জুঁই আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের নড়বড়ে হওয়ার কথাকেই তুলে ধরলেন, তা বেশ স্পষ্ট।






