TMC in Trouble: তৃণমূলে কোন‌ওভাবে আর কাজ করা যাবে না! কিছু মানুষের জন্য দলটা শেষ হয়ে যাচ্ছে, বেসুরো দাপুটে এই নেতা

শুভেন্দু অধিকারীর পর গতকালই মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছেন লক্ষ্মী রতন শুক্লা। ক্রিকেটের কাছে ফিরে যেতে চান এই বলে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও, ভেতরের গল্পটা কিছু আলাদা। তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার  পরেই ঘনিষ্ঠ মহলে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লক্ষ্মী অভিযোগ করে জানিয়েছেন, সাড়ে ৪ বছরের তার মন্ত্রিত্বের কেরিয়ারে একটিও ফাইল আসেনি তাঁর কাছে। মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও দেওয়া হয়নি কোনও প্রশাসনিক ক্ষমতা। প্রতিটা পদে কোনও কাজ করতে গেলে সম্মুখীন হতে হয়েছে বাঁধার।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, প্রায় ৬ মাস আগে লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে হাওড়া শহর তৃণমূলের সভাপতি করা হয়। কিন্তু তাঁর দাবি, জেলা সভাপতি পরিবর্তন করা হলে জেলার দলীয় সংগঠনে পরিবর্তন করা হয়। সেই কথা মাথায় রেখেই তিনি দায়িত্ব নেওয়ার চারদিনের মধ্যে মন্ত্রী অরূপ রায় ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে নতুন তালিকা তৈরি করে সেটা দলের নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, তার সুপারিশ অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত একটা ব্লকের সভাপতি পর্যন্ত বদলা করা হয়নি। এবং জেলা স্তরে নতুন করে কোনও কমিটিও তৈরি করা হয়নি।
আর বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়কের এহেন অভিযোগের পর যথারীতি অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক শিবির। আর এই সংকটজনক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন দলের এক দাপুটে নেতা। তিনি হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা রথীন চক্রবর্তী।
লক্ষ্মীর দল ত্যাগের পর নিজের বক্তব্যে তিনি জানালেন, ‘তৃণমূল একটু একটু করে শেষ হয়ে যাচ্ছে।’ বুধবার রথীন বাবু বলেন, ‘এখানে কোনওভাবে আর কাজ করা যাবে না, এটাই বারবার মনে হচ্ছে আমার। কয়েকজন নেতা নিজের মতো করে দল চালাচ্ছে, তাঁদের কাজ দলকে দুর্বল করা। এদের হাজার হাজার দোষ আছে, সেগুলো না দেখে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছে।’

একইসঙ্গে রথীন বাবু বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য দলটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিগত ১০ বছরে হাওড়ার কোনও উন্নতি হয়নি। হাওড়াবাসী সবকিছু থেকেই বঞ্চিত। রাজ্য নেতৃত্বকে এই নিয়ে জানালেও কোনও কাজ হয়নি।’

ক্ষোভ ঝড়িয়ে তিনি বলেন, ‘রাজ্য নেতৃত্ব পাথর, ওঁদের জানানো আর দেওয়ালকে জানানো সমান।’ যেখানে অভিষেক ব্যানার্জি দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিচ্ছেন সেখানেই তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের লাগাতার দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তৃণমূলকে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাকফুটে না নিয়ে চলে যায়।

 

আরও অন্যান্য খবর