তৃণমূল সাংসদ থাকাকালীন তাঁর দেওয়া ৮০ লক্ষ টাকাতেই হয় নারদ স্টিং অপারেশন! ম্যাথু স্যামুয়েলের বয়ানে প্যাঁচে কে ডি সিং

নারদ স্টিং অপারেশনের খরচ যুগিয়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ কে.ডি সিং। সিবিআই-এর কাছে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছিলেন নারদকর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল। তদন্তকারীদের ম্যাথু সেইসব, তহেলকা সংস্থার দায়িত্ব নেওয়ার পর কে.ডি সিংই তাঁকে ৮০ লক্ষ টাকা দেন স্টিং অপারেশনের জন্য। কলকাতার হোটেলে থাকা, খাওয়ার যাবতীয় খরচও বহন করে কেডি-র সংস্থা অ্যালকেমিস্ট। কিন্তু, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে তোলা স্টিং অপারেশনের ওই ফুটেজ সম্প্রচারে নিষেধ করেন কে.ডি সিং। ২০১৫ সালে ফুটেজ সহ তহেলকা ছাড়েন ম্যাথু স্যামুয়েল। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই ফুটেজ সম্প্রচার করা হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৩ জানুয়ারি কে ডি সিংকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। আগামী শনিবার পর্যন্ত তিনি থাকবেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হেফাজতে। অ্যালকেমিস্টের আধিকারিক এবং রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে দেড়শো থেকে দু’শো কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ।


আর এবার অ্যালকেমিস্ট কর্তা কে ডি সিংয়ের দিল্লি থেকে গ্রেফতারির পর এবার ইডির নজরে নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েলের সেই পুরনো বয়ান। সূত্রের খবর, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবার ম্যাথু স্যামুয়েলের নারদা স্টিং সংক্রান্ত বয়ান নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সংসদ কে। সম্ভবত সেকারণেই ইডির কলকাতা দপ্তর ও সিবিআইয়ের কাছ থেকে নারদকাণ্ডে কে ডি সিং সংক্রান্ত ম্যাথু স্যামুয়েলের বয়ান রিপোর্ট আকারে চেয়ে পাঠিয়েছে দিল্লির ইডি দপ্তর।

সূত্রের খবর, সেই স্টিং অপারেশনে কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা কে, কীভাবে দিয়েছিল, তা এবার কে ডি সিং-এর কাছ থেকে জানতে চায় ইডি। এছাড়াও, এখানে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠে আসছে। তৃণমূল সাংসদ থাকাকালীনই কেন‌ও খোদ নিজের দলের অন্দরের নেতাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করলেন তিনি? নারদ স্টিংয়ে টাকা ঢালার পিছনে তাঁর উদ্দেশ্য‌ই বা কী ছিল? কাকেই বা সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছিলেন তিনি? এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি ছিল কিনা? এসব নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। ইডি সূত্রের খবর, ম্যাথুর পুরনো বয়ানের প্রেক্ষিতেই এবার অ্যালকেমিস্ট কর্তাকে জেরা করতে চায় তারা। প্রসঙ্গত, নারদের ভিডিও সেইসময় রাজ্য বিজেপির দপ্তর থেকে দেখানো হয়েছিল। এমনকী বিজেপির সরকারি ইউটিউব চ্যানেলেও তা আপলোড করা হয়। পরে বেশ কয়েকজন অভিযুক্ত গেরুয়া শিবিরে শামিল হওয়ার পর তা ডিলিট করে দেয় বিজেপি।

আরও অন্যান্য খবর