লাভ জেহাদের ছায়া! নাম পরিবর্তন করে প্রেম, জোর করে ধর্মান্তর করাতে যৌন হেনস্থা, ধৃত মুসলিম যুবক

ফের এক লাভ জেহাদের ঘটনা সামনে এল মধ্যপ্রদেশে। অভিযোগ, সোহেল নামের এক মুসলিম যুবক নাম পরিবর্তন করে যৌন হেনস্থা করে ২২ বছরের এক তরুণীকে। জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করে তাঁকে। তরুণী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে গতকাল মধ্যপ্রদেশ সরকারের ২০২০-এর ধর্মীয় স্বাধীনতার অধ্যাদেশে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ।

তরুণীর অভিযোগে বলেছেন, চার বছর আগে ইন্দোর থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বারবনি জেলার পালসুদ শহরে সোহেলের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় তাঁর। সোহেল গাড়িচালকের কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাজনাও বাজায়। সেই সময় তরুণীর থেকে নিজের আসল পরিচয় গোপন করে সোহেল। তরুণীর কথায়, সোহেল নিজের পরিচয় দের সানি নামে এবং বলে সে তরুণীর ধর্মেরই। এরপর ফোন নম্বর চালাচালির পর ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হতে থাকে তাদের মধ্যে। শারীরিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে।

কিন্তু পড়ে সোহেল নিজের আসল পরিচয় দিলে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায় তরুণী। ঠিক তখনই শুরু হয় তাঁর উপর অত্যাচার। তরুণীকে ধর্ম পরিবর্তন করতে চাপ দিতে থাকে সোহেল যাতে তাঁকে বিয়ে করতে পারে। কিন্তু তরুণী রাজী না হওয়ায় তাঁর উপর চলে যৌন অত্যাচার। এরপর তরুণী সোহেলের সম্বন্ধে আরও খোঁজখবর নিলে জানতে পারেন যে, সোহেলের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে, এমনকি, প্রথম বিয়ে থেকে একটি বাচ্চাও রয়েছে তার।

এরপরই পুলিশে অভিযোগ জানান ওই তরুণী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার সোহেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা অধ্যাদেশ ২০২০ অনুযায়ী ৩৭৬, ৫০৬, ৩২৩, ও ২৯৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ই জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশ সরকার ‘মধ্যপ্রদেশ ধর্মীয় স্বাধীনতা অধ্যাদেশ ২০২০’ নামের একটি রায় পাশ করেন। এই রায় অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি কোনও তরুণী বা মহিলাকে জোর করে ধর্মান্তর করিয়ে তাঁকে বিয়ে করার চেষ্টা করেন, তাহলে সেই ব্যক্তির উপর জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ দায়ের করা যাবে এবং অভিযুক্তের দুই থেকে পাঁচ বছরের জেল বা জরিমানাও হতে পারে। এই রায় পাশ হওয়ার পর সোহেল প্রথম ব্যক্তি যে এই আইনের আওতায় গ্রেফতার হল।

আরও অন্যান্য খবর