দিল্লির রাজপথে এ বার ৭২তম প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রতিনিধিত্ব করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সবুজ সাথী।’ সঙ্গী হলো কবিগুরুর গান।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে। ২৩শে জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস-এর জন্মদিন উপলক্ষে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যা প্রকাশ্যে চলে আসে।
গতবছর বাতিল হয়ে যাওয়ার পর এই বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ফের পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো জায়গা পেয়েছে। সেই ট্যাবলোর থিম হল রাজ্য সরকারের ‘সবুজ সাথী’। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল বিলির যে প্রকল্প বিধানসভা ভোটে শাসক দল তৃণমূলের অন্যতম তুরুপের তাস। উল্টো দিকে বিজেপি জেলায় জেলায় এই প্রকল্পে দুর্নীতির খোঁজ শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাধারণত যে কোনও রাজ্য নিজের সরকারি প্রকল্পকে প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলোর থিম করতে চাইলে তাতে কুচকাওয়াজের দায়িত্বে থাকা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আপত্তি তোলে। গত বছর পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো খারিজ হয়ে যাওয়ার পিছনে এটা অন্যতম কারণ ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছিলেন, ‘সবুজশ্রী’, ‘জল ধরো, জল ভরো’-র মতো প্রকল্পকে রাজ্যের ট্যাবলোর থিম করতে। রাজ্যের ট্যাবলো জায়গা না পাওয়ায় খোদ মুখ্যসচিব প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সচিবকে চিঠি লিখেছিলেন। ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প তুলে ধরার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ‘সবুজ সাথী’ রাজ্যের প্রকল্প হলেও এ বার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তাতে ছাড়পত্র দিয়েছিল। বাংলার ট্যাবলোয় দেখানো হয়, ছাত্রছাত্রীরা স্কুলের দিকে সাইকেলে চেপে এগিয়ে চলেছে। সামনেই নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। ছাত্রছাত্রীদের বইপত্র নিয়ে পড়াশোনা করতেও দেখা যায়। শিক্ষা, এবং অগ্রগতিই যে ‘সবুজ সাথী’-র প্রধান লক্ষ্য, তা বোঝাতে বইয়ের সারির সঙ্গে দেখানো হয় কলমের নিব। ট্যাবলোর পিছনে ছিল কলকাতার ‘স্কাইলাইন।’





