লালকেল্লায় দেশের পতাকা সরিয়ে ধর্মীয় পতাকা তোলায় লজ্জিত কৃষকরা! দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে ১লা ফেব্রুয়ারি সংসদ মার্চ রদ

প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন শান্তিপূর্ণ মিছিলের নামে কৃষকদের দিল্লি অ্যাটাক দেখেছে দেশ। কেউ সমর্থন করেছেন কেউ সমর্থন করেননি। হাঙ্গামার মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল দিল্লির হেরিটেজ রেড ফোর্ট বা লালকেল্লা।

মিছিলের জন্য বরাদ্দ থাকা নির্দিষ্ট পথে না গিয়ে ক্রমে দিল্লি অভিমুখে ঢুকে পড়ে ট্রাক্টর বাহিনী। ভাঙতে থাকে একের পর এক ব্যারিকেড। অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় পাথর। পাল্টা পুলিশ ছোঁড়ে কাঁদানে গ্যাস। করা হয় ব্যাপক লাঠিচার্জ। এরপরই লাল কেল্লার দখল নেয় কৃষকদের মিছিল। বিক্ষোভকারীদের মধ্যেই একদল লাল কেল্লার চূড়ায় উঠে নিশান সাহিবের পতাকা উড়িয়ে দেয়। বিশাল মিছিলের সামনে কার্যত অসহায় বোধ করে পুলিশ বাহিনী।

এই ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ নেয় দিল্লি পুলিশ। নিন্দার ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, লালকেল্লায় কৃষকদের উপর কেন‌ও গুলি চাললনা পুলিশ! তিনি দাবি করেন, এই লজ্জার ঘটনা ঘটে পাঞ্জাবকে ভারত থেকে আলাদা করার চক্রান্ত করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে আন্দোলন ছেড়েছেন বেশ কয়েকটি কিষান সংগঠন l 

এবার সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার কৃষক নেতা বলবীর সিং রাজেবাল বলেন, গণতন্ত্র দিবসে ২ লক্ষের‌ও বেশি ট্রাক্টর এসেছিল। আর গোটা বিশ্ব সেদিনের ঘটনা দেখেছে। সরকার ষড়যন্ত্র করে আমাদের অভিযান ব্যর্থ করার চেষ্টা চালিয়েছিল। সরকার পাঞ্জাব কিষাণ মজদুর সমিতিকে প্যারেডে এগিয়ে দেয়। সরকারের ষড়যন্ত্রের ফলেই এইসব হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারকে দোষারোপ করে তাঁর আরও দাবি, সরকার নিজেই সবাইকে লাল কেল্লা আর ITO এর দিকে পাঠিয়েছিল। দীপ সিধু সরকারের লোক। ২৬শে জানুয়ারির দিন পুলিশকর্মীরা থানা ছেড়ে চলে যায় আর দীপ সিধুকে নিজের কাজ করতে দেয়। দেশের পতাকা সরিয়ে এরা ধর্মের পতাকা তোলে। এরফলে আমাদের আর দেশের মানুষের ভাবাঘেতে আঘাত লাগে। আমরা কোনও দোষ না করেও দেশবাসীর সামনে ক্ষমা চাইছি। কিন্তু আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।

তবে কৃষক আন্দোলন যে এখনই সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হচ্ছেে না তা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ৩০শে জানুয়ারি দেশজুড়ে আন্দোলন করা হবে, জনসভা করা হবে আর একদিনের অনশন করা হবে। আপাতত আমরা ১ ফেব্রুয়ারি সংসদ মার্চের কার্যক্রম রদ করছি। 

আরও অন্যান্য খবর