কৃষক হামলায় গুরুতর আহত ৩৯৪ জন পুলিশ! চুক্তি ভেঙেছে সব কৃষক নেতা, কড়া অ্যাকশন নেব, হুঁশিয়ারি দিল্লি পুলিশের

দিল্লি হামলার পর কেটে গেছে একদিন। এখন কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে লালকেল্লাকে। কৃষকদের হামলায় গুরুতর আহত তিনশ’র বেশি পুলিশকর্মী।

মিছিলের জন্য বরাদ্দ থাকা নির্দিষ্ট পথে না গিয়ে ক্রমে দিল্লি অভিমুখে ঢুকে পড়ে ট্রাক্টর বাহিনী। ভাঙতে থাকে একের পর এক ব্যারিকেড। অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় পাথর। পাল্টা পুলিশ ছোঁড়ে কাঁদানে গ্যাস। করা হয় ব্যাপক লাঠিচার্জ। এরপরই লাল কেল্লার দখল নেয় কৃষকদের মিছিল। বিক্ষোভকারীদের মধ্যেই একদল লাল কেল্লার চূড়ায় উঠে নিশান সাহিবের পতাকা উড়িয়ে দেয়। বিশাল মিছিলের সামনে কার্যত অসহায় বোধ করে পুলিশ বাহিনী।

সেই ঘটনার পর এদিন দিল্লী পুলিশের কমিশনার এস.এন শ্রীবাস্তব প্রেস কনফারেন্সে করেন। তিনি জানান কৃষক নেতাদের কয়েকটি শর্তের বিনিময়ে র‍্যালি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কৃষকরা নির্ধারিত রুট পাল্টে ব্যারিকেড ভেঙে দিল্লীর ভিতরে ঢুকে পড়ে। আমরা কৃষক নেতাদের বলেছিলাম যে কুন্ডলি, মানেসর আর পলবলে ট্রাক্টর র‍্যালি করতে। কিন্তু তাঁরা আমাদের কথা না রেখে দিল্লীর ভিতরে ট্রাক্টর র‍্যালি করে।

এস.এন শ্রীবাস্তব আর‌ও বলেনন, নেতাদের যখন র‍্যালি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তখন তাঁরা লিখিত দিয়েছিল যে ৫ হাজারের বেশি ট্রাক্টর র‍্যালিতে আসবে না। একই সঙ্গে থাকবে না কোনও রকম অস্ত্র।

কিন্তু কোন‌‌ওরকম চুক্তিই মানেনি কৃষকরা। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন রাজধানী জুড়ে তীব্র হিংসা ছড়ায় তারা। মোট ৩৯৪ জন পুলিশ কর্মী আহতে হয়েছেন আর কয়েকজন পুলিশকর্মী ICU তে ভর্তি।

দিল্লী পুলিশের কমিশনার বলেন, ২৫শে জানুয়ারি সন্ধ্যে জানতে পারি যে র‍্যালি করা নিয়ে আমাদের আর কৃষকদের মধ্যে যেই সমঝোতা হয়েছিল, সেটা তাঁরা পালন করবে না। তাঁরা সমাজ বিরোধী আর উগ্রবাদিদের নিয়ে আসে, তাঁরা মঞ্চে কব্জা করে উস্কানিমূলক ভাষণ দেয়। এরপর তাঁদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়।

কৃষক নেতাদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, হিংসা’র প্রতিটি ভিডিও আমাদের কাছে আছে। কাউকে ছাড়ব না। সব কৃষক নেতারাই এই কাজে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নেওয়া হবে। আমাদের চুক্তি হয়েছিল কৃষক নেতাদের সাথে, তাঁরা সেই চুক্তি ভেঙেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেবই।

RELATED Articles