মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেই এবার পদ্ম ফোটার মুখে, বিজেপিতে যেতে প্রায় সম্মত ভাই কার্তিক! 

‘আগামীদিনে কি হবে, সেটা কেউ বলতে পারে না। কালকে কী করব? আমি নিজেও জানি না।’ খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এর মুখ দিয়ে বেরিয়ে ছিল এই ধরনের মন্তব্য। আর যা জন্ম দিয়েছিল বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন জল্পনার।

কয়েকদিন আগেই, মুখ্যমন্ত্রীর গড় হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে ঢুকে পদ্ম ফুটে আসার হুমকি দিয়েছিলেন বিজেপি নিতাই শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমুন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও মিলেছিল পদ্ম ফোটারই  ইঙ্গিত। তমলুকের সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, ”মাননীয় তোলাবাজ ভাইপো, আমার বাড়িতে পদ্ম ফুটতে শুরু করেছে। বাকি ২৪শে এপ্রিল রামনবমী আছে, তার আগেই সব পদ্ম ফুটে যাবে। আর ১৬ই ফেব্রুয়ারির পরে আমি আপনার বাড়িতেও পদ্ম ফুটাইব।” তবে এই প্রথমবার নয়,অতীতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইঙ্গিত করে এমনটাই বলেছিলেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর বিবেকানন্দের জন্মদিন উপলক্ষ্যে কালীঘাটে ‘বিবেক মেলা’র আয়োজন করে থাকেন কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনা আবহে আয়োজনে কাটছাঁট করা হয়েছে, তবে মেলা বসে এবারও। ১৫ দিনের পরিবর্তে মেলা চলে ১২ দিন। সেই মেলা প্রাঙ্গনেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদের মতোই রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র নিয়ে সরব হন কার্তিক। বলেন,  ‘মুখে দেশের-দশের কথা বলব। আর সুযোগ-সুবিধা দেব নিজের পরিবারকে। এটাই এখন ভারতীয় রাজনীতি।’

আর এবার এই প্রসঙ্গে সরাসরি মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের মন্তব্যের জেরে তৃণমূল তথা ব্যানার্জী পরিবারে বেড়েছে অস্বস্তি। বিজেপিতে যোগদানের প্রশ্নে সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্তিকবাবু বলেন, ‘এখন‌ও আমি এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে বিষয়টি আলোচনার স্তরে রয়েছে।” স্বভাবতই মুখ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের এই জবাবে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তৃণমূলে।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের একের পর এক দুর্গে ফাটল ধরাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। গত রবিবার হাওড়ার ডুমুরজলা সভা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতায় তৃণমূলকে সাফ করার চ্যালেঞ্জও জানিয়েছিলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ২০শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে তৃণমূল কোম্পানির পতাকা তোলার মতো কেউ থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি বারবার মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারেও পদ্ম ফোটানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছেন।

যদিও, তৃণমূলের বরিষ্ঠ সাংসদ সৌগত রায় আগেই জানিয়েছিলেন, কার্তিক কোনওদিনই দলের কেউ নয়। কোনও পদেও নেই। বা বিধায়কও নন। যদিও দলের ফ্রন্টাল সংগঠন আজাদ হিন্দ বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ই।

তবে উল্লেখ্য, তাঁর বিজেপিতে যোগদানের গুঞ্জন চললেও আপাতত নির্বাচন পর্যন্ত বিজেপির দরজা বন্ধ। চলছে দলের শুদ্ধিকরণ। তৃণমূল ত্যাগীদের বিজেপিতে যাওয়ার জেরে এমনিতেই বেকায়দায় গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ্’র নির্দেশে এখন কাউকেই তৃণমূল থেকে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিজেপির মহাসচিব কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তিনি জানিয়েছেন, বিজেপিকে কোনোভাবেই তৃণমূলের বি-টিম হতে দেব না। তাই এখন দলবদলের পালা বন্ধ রাখা হবে।

তবে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের লোককে কি বিজেপি দূরে সরিয়ে দেবে না কাছে টেনে নেবে সেটাই এখন দেখার।

RELATED Articles