ভারতের আইটি (IT) সেক্টরে একের পর এক বিতর্ক ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন করে উত্তেজনা। একদিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) নাসিক অফিসে যৌন হেনস্তা ও ধর্মীয় চাপের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে, অন্যদিকে এবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে টেক মহিন্দ্রা (Tech Mahindra)। সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো একাধিক দাবি ও পোস্টকে কেন্দ্র করে সংস্থাটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক, যেখানে কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টটি করেন বম্বে হাই কোর্টের আইনজীবী আশুতোষ দুবে। তিনি দাবি করেন, টেক মহিন্দ্রার মুম্বইয়ের গোরেগাঁও অফিসে এক কর্মীর পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে সেখানে “মিনি পাকিস্তান-সদৃশ” পরিবেশ রয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়, কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় উৎসবের সময় কিছু বিশেষ নিয়ম মানা হচ্ছে, যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এরপর আরও কিছু পোস্ট ও স্ক্রিনশট সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় অফিসের পান্ট্রি এলাকাকে রমজান মাসে নামাজ ও ইফতারের জন্য “ফুটওয়্যার-ফ্রি জোন” ঘোষণা করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ তেলেঙ্গানা অফিস নিয়েও উঠে আসে। যদিও এসব বার্তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও বিষয়টি দ্রুতই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
অভিযোগ সামনে আসতেই টেক মহিন্দ্রার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়। সংস্থার মুখপাত্র জানান, সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। তারা স্পষ্ট করে জানায়, যে ছবি বা দাবি ছড়ানো হয়েছে, তা তাদের কোনও অফিসের নয়। সংস্থা আরও জানায়, কর্মক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনও ধরনের বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না।
আরও পড়ুনঃ ১৮০ নাবালিকার সঙ্গে প্রেমের ফাঁ*দ, ৩৫০টি অ*শ্লীল ভিডিও! মহম্মদ আয়াজ ওরফে তনভিরের বিরুদ্ধে বিস্ফো*রক অভিযোগ! এ কি একার অপরাধ, নাকি বড় চক্রের ইঙ্গিত?
এই পুরো ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন টিসিএস নাসিক অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। সেখানে একাধিক কর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও ধর্মীয় চাপের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে। সেই ঘটনার প্রভাব এখনও কাটেনি, তার মধ্যেই টেক মহিন্দ্রাকে ঘিরে নতুন অভিযোগ কর্পোরেট জগতকে আরও অস্বস্তিতে ফেলেছে। দুই ঘটনাই এখন আইটি সেক্টরের কর্মপরিবেশ ও নীতিগত স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।





