১৮০ নাবালিকার সঙ্গে প্রেমের ফাঁ*দ, ৩৫০টি অ*শ্লীল ভিডিও! মহম্মদ আয়াজ ওরফে তনভিরের বিরুদ্ধে বিস্ফো*রক অভিযোগ! এ কি একার অপরাধ, নাকি বড় চক্রের ইঙ্গিত?

সোশাল মিডিয়ার যুগে বন্ধুত্ব আর সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলেছে। কিন্তু সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে তৈরি হচ্ছে একের পর এক ভয়ঙ্কর অপরাধচক্র। প্রেমের নামে বিশ্বাস অর্জন, তারপর সেই বিশ্বাসকে হাতিয়ার করে জীবনে নামিয়ে আনা অন্ধকার এমনই এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনার সামনে এসেছে দেশ। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, ধীরে ধীরে সামনে আসে এমন কিছু তথ্য, যা কেবল অপরাধ নয়, মানবিকতার চরম লঙ্ঘন।

পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার অভিযোগের ভিত্তিতে। এরপরই পুলিশ তদন্তে নামে। অভিযোগ ছিল, এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে একাধিক নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছে। তদন্ত শুরু হতেই উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের কাছে জমা পড়া প্রাথমিক প্রমাণেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ঘটনাটি একক কোনও অপরাধ নয়, বরং বড়সড় একটি চক্রের ইঙ্গিত বহন করছে।

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত মহম্মদ আয়াজ ওরফে তনভির অমরাবতীর পারাতওয়াড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি সোশাল মিডিয়া বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ও স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat) ব্যবহার করে নাবালিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেমের প্রস্তাব এইভাবে ধীরে ধীরে তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করতেন। এরপর নানা অজুহাতে তাঁদের মুম্বই ও পুণেতে নিয়ে গিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করা হত। অভিযোগ, সেই ভিডিও দেখিয়ে তাঁদের ব্ল্যাকমেল করে দেহ ব্যবসায় নামতে বাধ্য করা হত।

তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ১৮০ জন নাবালিকা এই চক্রের শিকার। শুধু তাই নয়, ৩৫০টিরও বেশি আপত্তিকর ভিডিও উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অভিযুক্ত ওই ভিডিওগুলি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিতেন বলে অভিযোগ। এই তথ্য সামনে আসতেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এমনকি স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠনও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ পয়লা বৈশাখে একতার কোলে এল লক্ষ্মী, কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন প্রভাত রায়ের মেয়ে! দাদু হয়ে কী আবেগঘন বার্তা পরিচালকের?

অবশেষে পুলিশ অভিযুক্তকে মহারাষ্ট্রের অমরাবতী থেকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের নির্দেশে তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যেখানে একাধিক আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং পুণে অফিসে কর্মী হিসেবে কাজ করত। অভিযোগ উঠতেই দলটির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে, ভবিষ্যতে সামনে আসতে পারে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles