‘আমি আর বাঁচব নি’, চলে গেলেন নবান্ন অভিযানে পুলিশের লাঠির ঘায়ে আহত বাম কর্মী মইদুল ইসলাম মিদ্দা

মইদুল ইসলাম মিদ্দা। বয়স ৩১। টোটো চালিয়ে সংসার চলত এই বাম কর্মীর। অজস্র লাঠির ঘায়ে আজ তাঁদের সব অচল। ভিডিওতে ওঁর শেষ বলা ‘আমি আর বাঁচব নি’, সত্যি হয়ে গেল আজ সকালে। মৃত্যু হল তাঁর। নবান্ন অভিযানে আহত হয়ে ভর্তি ছিলেন বলে দাবি। দেহে লাঠির আঘাতের চিহ্ন ছিল, অভিযোগ বাম নেতা ফুয়াদ হালিমের। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ মাথা ও বুক লক্ষ্য করেই লাঠি চালিয়েছে। সিপিআইএমের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক অজিত পতি জানিয়েছেন, বাঁকুড়া জেলা পার্টি অফিসে এই বিষয়ে বেলা ১১ টার সময় একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, পুলিশের প্রচণ্ড মারে ওই বাম কর্মীর শরীরের একাধিক মাংসপেশিতে গুরুতর আঘাত লাগে। পেটে ও পিঠে ভয়ংকর ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হন তিনি। আঘাত লাগে কিডনিতে। বন্ধ হয়ে যায় কিডনির কাজ। যার ফলে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যু হয় বাঁকুড়ার কোতুলপুরের বাসিন্দা মইদুলের। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বাম নেতৃত্ব। মানবাধিকার কমিশনে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা। এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মৃত্যু নয়, এটা খুন। সরকার ইতরতার সীমা ছাড়িয়েছে। এই বাচ্চা ছেলেটাকে কীভাবে মেরেছে। সরকার ভয় পেয়েছে। তার বুকে, পিঠে প্রচণ্ড আঘাত করেছে পুলিশ। চিকিৎসক চাপের মুখে সবটা বলতে পারছেন না।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগে নবান্ন অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া বাহারপোতা গ্রামের এক বামকর্মী। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েও যুবকের সন্ধান পায়নি পরিবার। তাঁর কি হয়েছে কেউ জানে না। এবার এক যুবনেতার মৃত্যুতে রীতিমতো প্রশ্নের মুখে পুলিশ। প্রশাসনের বিরুদ্ধে অত্যধিক বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে সমাজের একটা বড় অংশ। প্রসঙ্গত, চাকরি, শিক্ষা-সহ একাধিক দাবিতে বৃহস্পতিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠন। সেখানেই পুলিশ ও বামকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হয়। জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে প্রতিবাদীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। ওই ধুন্ধুমার পরিস্থিতিতে আহত হন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশকর্মী।

আরও অন্যান্য খবর