মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, বাম রাজনীতিতে নামটা বেশ পরিচিত। বরাবরই সংগ্রামী জীবন তাঁর। তবে এখন আরও একটি পরিচয় তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তা হল এখন তিনি নন্দীগ্রামের মতো হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী। নন্দীগ্রামের ত্রিমুখী লড়াইয়ের একটি মুখ হলেন মীনাক্ষী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মতো দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ তাঁর বিপরীতে। তবে কোনও কিছুতেই তাঁকে দমানো অসম্ভব। দুই প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের মাঝে পড়েও নিজের আত্মবিশ্বাসে অটল তিনি। তাঁর নানান সভা-মিছিলেও তাঁর সেই রূপই বেরিয়ে আসে।
গতকাল, সোমবার নন্দীগ্রামে ২০০৭ সালের ‘অপারেশন সূর্যোদয়’ নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন নন্দীগ্রামে কারা গুলি চালিয়েছিল, তা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন তিনি। তাঁর কথায়, অধিকারী পরিবার অর্থাৎ শিশির অধিকারী ও শুভেন্দু অধিকারীর সাহায্যেই পুলিশ গ্রামে ঢুকতে পেরেছিল। আবার অন্যদিকে, শিশির অধিকারীর দাবী মমতার নির্দেশেই এই কাজ করেছিল পুলিশ। এই নিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে বামপন্থীরা। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও বিবৃতি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন- সিবিআইয়ের হাতে ধরা পড়ল কয়লা পাচারকাণ্ডের মূল চক্রী, শুরু হবে জিজ্ঞাসাবাদ
এই বিষয়ে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মীনাক্ষী বলেন, “তখন আমাদের সরকারকে দোষারোপ করেছিলেন বিরোধীরা। আমাদের সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল, তারা ক্ষমা চাইতে জানত। কোনও ভুল হলে জনতার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ। নন্দীগ্রাম নিয়েও আমরা বলেছিলাম, পরে মানুষ বুঝতে পারবেন। আজ পারছেন। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, অন্যদিকে শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী। এঁরা উভয়েই নন্দীগ্রামে সেদিনের ঘটনা নিয়ে যেভাবে একে অপরকে দায়ী করছেন এখন, তা দেখে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মোটেই ভাল লাগছে না। তাদের এই দোষারোপ, ষড়যন্ত্রের জন্য নন্দীগ্রামের ছেলেমেয়েদের জীবন ৪০ বছর পিছিয়ে গেল”।
আরও পড়ুন- ন্যক্কারজনক! বিজেপি কর্মীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের চেষ্টা, কাঠগড়ায় তৃণমূল, উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম
কিন্তু, যাদের গলায় হিন্দুদের মৃত্যুর অভিসম্পাত শোনা যায়, সেই আইএসএফের সঙ্গেই কেন জোট বাঁধল সিপিএম। এই বিষয়ে মীনাক্ষীর জবাব, “একসময়ে খুনের সঙ্গে যুক্ত, বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা, যেমন শুভেন্দু অধিকারী, সাধ্বী প্রজ্ঞারা যদি আজও রাজনীতি করে থাকেন, তাহলে আব্বাস কেন নয়? তিনি সেদিন ও কথা বলেছিলেন, আজ তো তা বলছেন না। আজ তিনি বেকারদের জন্য চাকরির দাবি তুলছেন, মানুষের নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য ভাবছেন, তাহলে তাঁর বেলায় দোষ কীসের?”
নন্দীগ্রামে লড়াইটা তাঁর পক্ষে ঠিক কতটা কঠিন? নন্দীগ্রাম থেকেই কেন লড়ছেন তিনি। তাঁকে এই প্রশ্ন করাতে গানের লাইন ভেসে উঠল তাঁর গলায়। গাইলেন, “মেরা প্যার কা উমর হ্যায় ইতনা সনম/তেরে প্যার সে শুরু/ তেরে প্যার কি কসম”। এই গানের কথার রেশ ধরে মীনাক্ষীর উত্তর “আমার সরকারেরও তেমনই। ওঁরা নন্দীগ্রাম থেকে শুরু করেছিল। নন্দীগ্রামেই শেষ হবে এই লড়াই”।






