প্রথম দফায় ১৫ দিনের পর ফের দ্বিতীয় দফায় ১৫ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায় এটাকে লকডাউন বলার থেকে দৈনন্দিন জীবনে কিছু বিধি-নিষেধ বলা উচিত। আর যেগুলো বিগত ১৫ দিন ধরে মেনে চলার ফলে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে করোনা সংক্রমণকে এমনটাই জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জুনের ১৫ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে এই লকডাউন। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বৈঠকে এমনটাই জানান মুখ্যমন্ত্রী। যা যা নিয়ম ১৫ দিন ধরে চলছিল সেগুলোই আসন্ন ১৫ দিনের জন্য লাগু করা হলো বলে জানিয়েছেন তিনি । যথারীতি বর্তমান নিয়মেই বাজার-দোকান বন্ধ থাকবে। বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। মিষ্টির দোকানও খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগের নিয়মেই খোলা থাকবে অন্যান্য সমস্ত জরুরি পরিষেবা।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রনহীন করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এই বিধি-নিষেধ জারি করা হয়। এবং যার থেকে সুফল পেয়েছে বাংলা। কিছুটা হলেও কমেছে দৈনিক সংক্রমণের হার। আর তাই কোনওরকম চান্স না নিয়ে সংক্রমণকে আরও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও ১৫ দিনের জন্য একই বিধি-নিষেধ আরোপ করা হলো। এতদিন পাটশিল্পে ৩০ শতাংশ কর্মী উপস্থিত থাকতে পারতেন। এবার তা বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে করোনা প্রতিষেধক নিয়ে নির্মাণ শিল্পে কাজ চালানো যাবে। সেই ক্ষেত্রে যাবতীয় করোনা-বিধি মানার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করতে হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে, বারবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এটা লকডাউনও নয়, কার্ফুও নয়। ওই দুটোর আইন আলাদা। এখানে শুধুমাত্র করোনার কারণে দৈনন্দিন জীবনের উপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে রাজ্যবাসীকেও ধন্যবাদ দেন তিনি এই পরিস্থিতিতে সরকারের কথা মেনে নিয়ে তাদের সহায়তা করার জন্য।
উল্লেখ্য, এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, এটা লকডাউন বা কার্ফু নয়। সংক্রমণ রুখতে কিছু বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে মাত্র। কার্ফু এবং লকডাউনে আলাদা আইন রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য়বাসীকে ধন্যবাদ দিয়ে এদিন বলেছেন, ‘বাধা নিষেধ জারি করায় কোভিড কমেছে। রাজ্যের মানুষ সহযোগিতা করে নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করেছে।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ কমলেও, দৈনিক মৃত্যুর হার দেড়শোর নীচে নামছেই না। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে এই অবস্থা।






