প্রতিনিয়ত নিজের রূপ ও চরিত্র বদলাচ্ছে করোনাভাইরাস। এর জেরে আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠছে এই ভাইরাস। প্রথম থেকেই একাধিকবার নিজের চরিত্রের বদলের জন্য গোটা বিশ্বে ত্রাসের কারণ হয়ে উঠেছে কোভিড-১৯। এবার সামনে এল আরও এক ভয়ানক ঘটনা।
জানা গিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৬ বছরের এইচআইভি পজিটিভ এক মহিলার দেহে মিলেছে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি। এই এইচআইভি ভাইরাস হল আরএনএ ভাইরাস। এর সঙ্গে করোনা ভাইরাস যুক্ত হওয়ায় ওই একই মহিলার দেহে ৩২ বার নিজের চরিত্র ও রূপ পালটেছে করোনা। এর জেরে এটি হয়ে উঠেছে আরও ভয়ংকর।
আরও পড়ুন- কোভিশিল্ড নেওয়ার পরও শরীরে তৈরি হয়নি অ্যান্টিবডি, আদর পুনাওয়ালার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের
কোনও ব্যক্তি যদি এইচআইভি পজিটিভ হয়, তাহলে এমনিতেও সেই ব্যক্তির শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধিরেই কমতে থাকে। জানা গিয়েছে, ওই মহিলার শরীরে এইচআইভি ভাইরাস ধরা পড়ে ২০০৬ সালে। এরপর গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ওই মহিলা করোনা আক্রান্ত হন। এর ফলে এই দুই ধরণের ভাইরাসের মিশ্রণে করোনার স্পাইক প্রোটিনের ১৩ বার মিউটেশন হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার মেডিকেল জার্নাল medRxiv-এ প্রকাশিত হয়েছে যে এখনও পর্যন্ত ওই মহিলার দেহে E484K মিউটেশনের পর Alpha variant B.1.1.7 পাওয়া গিয়েছে, এর সঙ্গে সঙ্গেই N510Y মিউটেশনের জেরে তৈরি হয়েছে B.1.351 ভ্যারিয়েন্ট।
এই নিয়ে চিন্তা ছড়িয়েছে গবেষক মহলে। ওই মহিলার থেকে এই ভ্যারিয়েন্টগুলি কতটা ছড়িয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। যদি তা ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে যে গোটা বিশ্বে ফের নতুন করে করোনার ঝড় আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখনও পর্যন্ত ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের করোনার স্ট্রেন নিয়ে গোটা দেশ বিপর্যস্ত।
কোনও এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি যদি করোনা আক্রান্ত হন, তাহলে প্রাণঝুঁকির আশঙ্কা থাকে অনেকটা বেশি। এঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেহেতু সেভাবে থাকে না, তাই খুব সহজেই তারা কোভিড আক্রান্ত হন।
আরও পড়ুন- ভাড়াটে নিয়ে সমস্যা? ভাড়া বাড়ি পেতে অসুবিধা? বাড়িওয়ালা-ভাড়াটে চুক্তি নিয়ে নয়া আইন আনল মোদী সরকার
এই কারণে দুই ভাইরাসের মধ্যে মিউটেশন চলে এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির শরীরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের ঘটনা যদি আরও দেখা যায়, তাহলে করোনার নানান মিউটেশন সংক্রমণের নেপথ্যে থাকবেন এই এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিরাই। এই ঘটনা এবার নতুন করে গোটা বিশ্বকে আশঙ্কার মধ্যে ফেলেছে।





