খোদ কলকাতার বুকে এবার অমানবিক ঘটনা। মোটা টাকা করোনা রোগীর মৃতদেহ সৎকারের অভিযোগ উঠল শহরে। অভিযোগ পেতেই আসরে নামে কলকাতা পুরনিগম। পৃথক তিনটি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে একজন ডোম সহ ৫ জনকে সাসপেন্ড করল কলকাতা পুরনিগম। ডোম ছাড়াও সাসপেন্ড হওয়া কর্মীদের মধ্যে একজন পিস ওয়ার্ল্ডের নিরাপত্তারক্ষী, বাকি ৩ জন হল পুরনিগমের শববাহী গাড়ির চালক ও খালাসি l
এই কাণ্ডের তদন্তে পুরনিগম জানতে পেরেছে, গত ৮ই জুন করোনায় মৃত এক ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে কিছু টাকা দাবি করেন পিস ওয়ার্ল্ডের নিরাপত্তারক্ষী শম্ভু মণ্ডল। ওই নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মৃতের পরিবারের কাছে খাওয়া-দাওয়া করার জন্য কিছু টাকা চেয়েছিলেন, বলেছিলেন তার বদলে মৃতদেহটি যাতে দ্রুত দাহ করা যায়, সেই ব্যবস্থা করবেন।
এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণের জন্য পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিক ওই নিরাপত্তারক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।তারপর শম্ভু মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়।
আরও পড়ুন- আজই তৃণমূলে যোগ দেবেন মুকুল রায়! কালীঘাটে সাক্ষাৎ মমতার সঙ্গে, এরপর গন্তব্য তৃণমূল ভবন
প্রসঙ্গত, গত ১৪ই মে এমন একটি ঘটনা ঘটে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। সেখানে রাজেশ সিংহানিয়া নামে এক ব্যক্তি তাঁর পরিজনের মৃতদেহ দাহ করতে যান। সেই শ্মশানের ডোম আনন্দ মণ্ডল দেহ দ্রুত দাহ করার জন্য ৫হাজার টাকা দাবি করে। এই খবর জানাজানি হতেই পুরনিগমের আধিকারিকরা ওই ডোমকে সাসপেন্ড করেন। নিজের দোষ স্বীকার করাই শুধু নয়, ওই ডোম ৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়েও দেন।
এরপর ফের এদিন কলকাতা পুরনিগমের কন্ট্রোল রুমে সিরিটি শ্মশান থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি জানান, পুরনিগমের শববাহী গাড়ির চালক ও তাঁর সহকর্মীরা মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে আসার জন্য ২৭০০ টাকা চাইছেন। খবর পেয়েই পুরনিগমের আধিকারিকরা শ্মশানে চলে যান। সেখানেই সমীর হালদার, বিশ্বজিৎ নস্কর ও সঞ্জয় রজককে গ্রেফতার করা হয়।





