শোভন চট্টোপাধ্যায়, রত্না চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যেকার বাদানুবাদ যেন শেষ হতেই চায় না। কিছুদিন আগেই সিবিআইয়ের হাতে ধরা পড়েন শোভন। এরপর অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল যান, এরপর ফেরেন বাড়ি। একটি সুস্থ হয়েই ফের রত্নার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জারি করলেন শোভন-বৈশাখী। এর পাল্টা দিয়েছেন রত্নাও।
আসলে কিছুদিন আগেই শোভন রত্নার চরিত্র নিয়ে নানান প্রশ্ন তোলেন। বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে তিনি দাবী করেন যে রত্না বেপরোয়া জীবনযাপন করেন। সেই ছবিতে দেখা যায় রত্না এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সঙ্গে দোলনায় দুলছেন। শোভন ওই ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আরও পড়ুন- কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বের দৌড়ে দিলীপ! তালিকায় একাধিক সংসদের নাম
পাল্টা রত্না এর জবাব দেন। তাঁর কথায়, তিনি তাঁর দলের লোকজনের সঙ্গেই ছিলেন, ‘অন্য কারোর বরের সঙ্গে নয়’। রত্নার দাবী, তিনি বেহালা পূর্ব থেকে জিতেছেন বলে শোভন-বৈশাখী তাঁকে হিংসে করে এমন তোপ দাগছেন।
এরপর আজ, রবিবার দুপুরে দেখা গেল এক কাণ্ড। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন শোভন-বৈশাখী। না কোনও সাংবাদিককে নয়। নিজেরাই নিজেদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। প্রশ্নকর্তা বৈশাখী, উত্তরদাতা শোভন। সেউ ভিডিও ফেসবুকে শেয়ারও করেছেন তারা।
কিন্তু কেন এই সাক্ষাৎকার?
আসলে নারদকাণ্ডে সিবিআইয়ের হাতে শোভন গ্রেফতার হওয়ার পর নিজাম প্যালেসে দৌড়ে গিয়েছিলেন রত্না। হাসপাতালেও যান তিনি। এমনকি, শোভনের ছেলে ঋষিও উডবার্নে পৌঁছন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। এরপরই সকলের মনে হতে থাকে যে পরিবারের প্রতি হয়ত কোনও দুর্বল জায়গা এখনও রয়েছে শোভনের। এবার হয়ত তাদের পরিবার জোড়া লাগলেও লাগতে পারে, এমনও ভেবেছিলেন অনেকেই।
কিন্তু সকলের এই ধারণা যে আদ্যোপান্ত ভুল, এর প্রমাণ আজকের এই সাক্ষাৎকার। ৫৪ মিনিটের এই ভিডিওতে শোভন সিবিআই পর্ব থেকে শুরু করে নানান ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, হাসপাতালে ছেলেকে দেখার পরই তাঁকে চলে যেতে বলেন তিনি। রত্নার সঙ্গে কোনও কথা হয়নি, এমনটাও জানান শোভন। রত্না উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সকলকে ভুল ব্যাখ্যা করছেন বলে দাবী শোভনের।
আরও পড়ুন- ত্যাগ তপস্যা ছাড়া বিজেপিতে থাকা যাবে না! ক্ষমতা ভোগ করতে চাইলে আমরাই রাখব না: দিলীপ উবাচ
অন্যদিকে, এই সাক্ষাৎকারকে ঘিরে রত্নার কটাক্ষ, “হাস্যকর জুটি! নিজেরাই নিজেদের ইন্টারভিউ করছে”। রত্না স্পষ্টভাবে এও জানান যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনওদিনই শোভনকে তৃণমূলে ফেরাবেন না। তিনি আঙুল তুলেছেন বৈশাখীর স্বামী মনোজিৎ মণ্ডলের দিকেও। তাঁর দাবী, স্বামী-স্ত্রী মিলে শোভনের ব্রেন ওয়াশ করছে। শোভনকে ট্র্যাপে ফেলা হয়েছে। তিনি এও বলেন, “আমার বরটা এমন ছিল না। ওর নামে কেউ কিছু বললে আমার খারাপ লাগে”।





