আরও কঠোর বিজেপির আইনশৃঙ্খলা কমিটি, এবার নজরদারি চলবে দলের কর্মীদের ফেসবুকে, জারি নয়া ফতোয়া

একুশের নির্বাচনে চরম হার হয়েছে বিজেপি। রাজ্য নেতৃত্বের মতে, এর নেপথ্যে সোশ্যাল মিডিয়ারও বেশ অবদান রয়েছে। এই কারণে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিজেপির আইনশৃঙ্খলা কমিটি।

জানা গিয়েছে, এবার থেকে যদি কোনও বিজেপি কর্মী বিজেপি বিরোধী কারোর সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব করে, তাহলে তাঁকে শো-কজের চিঠি পাঠানো হবে দলের আইনশৃঙ্খলা কমিটির তরফে। নতুন এই ফতোয়া জারি করেছে গেরুয়া শিবির। শুধু তাই-ই নয়, বিজেপি বিরোধী কোনও পোস্টে লাইক দিলেও শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জবাব দিতে হবে ওই বিজেপি কর্মীকে।

আরও পড়ুন- সিলিন্ডারের পাশেই রাখা বোমা, তৃণমূলের বিদায়ী কাউন্সিলরের ছেলের ফ্ল্যাট থেকে মিলল কৌটো বোমা

বিজেপির নিচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে রাজ্য স্তরের বেশ কিছু নেতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই থেকেই রাজ্য বিজেপির আশঙ্কা হয়েছে যে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দলে কোনও অনুশাসন থাকবে না। এই কারণেই এবার দলের আইনশৃঙ্খলা কমিটিকে অতি সক্রিয় করে তোলা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নিচুতলার নেতা-কর্মীকে দলবিরোধী মন্তব্য করার জন্য শো-কজ করা হয়েছে বলে খবর। এমনকি, কয়েকজনকে আবার রাজ্য দফতরে ডেকে সতর্কও করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বিজেপির এই আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রধান হলেন বাঁকুড়ার সাংসদ সুভাষ সরকার। এই বিষয়ে তাঁর মত, “আমরা নেতা–কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি, দলবিরোধী পোস্ট না করতে। দলবিরোধী কাউকে ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় রাখা যাবে না। না হলে পার্টি কড়া ব্যবস্থা নেবে”।

দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, কিছু কিছু বিজেপি কর্মীরা আবার নিজেরা দলের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু না লিখলেও, অন্য কোনও ক্ষুব্ধ কর্মীর পোস্টে লাইক বা কমেন্ট করছেন। এই সমস্ত কমেন্টের স্ক্রিনশটও বিজেপি আইনশৃঙ্খলা কমিটির কাছে পৌঁছেছে বলে দাবী।

আরও পড়ুন- ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে মিলখা সিং-কে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মোদীর, আসন্ন অলিম্পিকের জন্যও জানালেন শুভেচ্ছা

তবে দলের অন্দরে যে একটা চাপা উত্তেজনা চলছে, তা বেশ স্পষ্ট। আর বিজেপির অন্দরেই রব উঠেছে যে এই উত্তেজনা, ক্ষোভ চাপা দিতেই এমন ফতোয়া জারি করা হয়েছে। অনেক কর্মীদের মতেই, “এটা কেমন ফতোয়া! ফেসবুকে কে কার বন্ধু হবেন, সেটাও দল ঠিক করে দেবে নাকি! এভাবে কর্মীদের ক্ষোভ চেপে রাখা অসম্ভব”।

আরও অন্যান্য খবর