দমদমে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে শিশুমৃত্যু, ঘটনাস্থলে তৃণমূল নেতারা, ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তৃণমূল ক্যাডার দিয়ে আটকানো হল সংবাদমাধ্যমকে

গতকাল, বুধবার সন্ধ্যের ঘটনা। নিমেষে খালি হয়ে যায় দুই মায়ের কোল। বাতিস্তম্ভের খোলা বক্সের তারে হাত লেগে মৃত্যু হয় এক শিশুর। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তারই বান্ধবী। এরপরই দমদমের মতিঝিল লেন এলাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মৃত বালিকাদের পরিবার থেকে শুরু করে স্থানীয়রা।

মৃত বালিকাদের নাম শ্রেয়া ও অনুষ্কা। তাদের পরিবারের অভিযোগ এলাকার কাউন্সিলর, কো-অর্ডিনেটর সুরজিৎ রায় চৌধুরী, বিধায়ক ব্রাত্য বসু, সাংসদ সৌগত রায়ের গাফিলতির জেরেই আজ এই মর্মান্তিক পরিণতি। দীর্ঘদিন ধরেই নানান বাতিস্তম্ভের বাক্স খোলা অবস্থায় রয়েছে।

গতকালের এই ঘটনার পর আজ ওই এলাকাত মৃত বালিকাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান সুরজিৎ রায় চৌধুরী, ব্রাত্য বসু ও সৌগত রায়। পরিবারের রোষের মুখে পড়েন তৃণমূল নেতারা। সাংসদ, বিধায়ক বলেন যে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কিন্তু তা নিতে অস্বীকার করে সেই পরিবার। তারা বলেন, “আমার ৬ লক্ষ টাকা দিচ্ছি, আমাদের মেয়েকে ফিরিয়ে দিন”।

এরপর তৃণমূল নেতারা পরিবারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে চান, তা-ও আবার দরজা, জানলা বন্ধ করে। সেখানে সংবাদমাধ্যমকে আটকানো হয়। তৃণমূল ক্যাডার দিয়ে কোনও করোনা বিধিনিষেধ ছাড়াই সাংবাদিকদের আটকানো হয় যাতে তারা কোনও খবর না করতে পারেন। এর থেকেই প্রশ্ন ওঠে যে কীসের এত গোপনীয়তা, যে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে আলাদাভাবে গোপনে কথা বলতে হবে?

এদিনের এই ঘটনার পরিদর্শনে গেলে সুরজিৎ রায় চৌধুরীকে বাতিস্তম্ভের বক্স খোলা থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু এই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন সেটা দেখার দায়িত্ব নাকি তাঁর নয়। এই দায়িত্ব পুরপ্রধানের। এমনকি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা বন্ধ করে দিতেও বলেন তিনি।

নানানভাবে সংবাদমাধ্যমকে বাকরুদ্ধ করানোর চেষ্টা চালায় তৃণমূল ক্যাডার। এমনকি সুরজিৎ রায় চৌধুরীর সাগরেদরা এক সাংবাদিকের গায়ে হাত দিয়ে তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেন। পরিবারের ক্ষোভের মুখে পড়ে তখনই সেই এলাকা ছেড়ে চলে যান সুরজিৎ রায় চৌধুরী।

একের পর এক এই জমা জলে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে শহরে। কিন্তু এই বিষয়ে আমলই দিচ্ছে না শাসকদল। এমনকি নিজেদের গাফিলতির কথাও স্বীকার করেননি তারা। উল্টে অযৌক্তিক কথাবার্তা বলে, সংবাদমাধ্যমকে আটকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে উদ্যত তৃণমূল।

RELATED Articles