তল্লাশির পর ডাটা ডিলিটের নির্দেশ, IPAC কর্তার গ্রেফতারে ইডির বি*স্ফোরক দাবি! রাজনৈতিক টাকার গোপন চক্রের ইঙ্গিত?

আইপ্যাক (IPAC)-এর এক শীর্ষ কর্তার গ্রেফতারি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ইডি-র দাবি, তল্লাশির পর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সংস্থার ভিতরেই। এই অভিযোগ সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—শুধুই আর্থিক অনিয়ম, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন জটিল হচ্ছে এই মামলার জাল।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আইপ্যাকের অর্থনৈতিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে একটি নতুন মামলার ভিত্তিতে। দিল্লি পুলিশের ‘ইকোনমিক অফেন্স উইং’-এ দায়ের হওয়া প্রতারণার অভিযোগের তদন্তভার পরে ইডির হাতে আসে। সেই সূত্রেই শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তীতে গ্রেফতারি। প্রথমদিকে ঘটনাটি সাধারণ আর্থিক অনিয়মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে হলেও, তদন্তকারীদের হাতে আসতে থাকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

তল্লাশির সময় ভিনেশের বাড়ি থেকে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। ইডির অভিযোগ, সেই তল্লাশির পরই একটি কনফারেন্স কলের মাধ্যমে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ধৃত কর্তা। সেখানেই তিনি ল্যাপটপ, মোবাইল এবং ই-মেইল থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। শুধু নির্দেশই নয়, নিজের কাছেও থাকা তথ্য ডিলিট করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, এমন অভিযোগও উঠেছে। তদন্তকারীদের মতে, প্রমাণ লোপাট করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

এরই পাশাপাশি সামনে এসেছে ‘৫০ শতাংশ চেক’ নীতির বিষয়টি। ইডির দাবি, ভিনেশের সিদ্ধান্তেই এই পদ্ধতি চালু হয়েছিল সংস্থায়। অর্থাৎ, কোনও কাজের মোট পেমেন্টের অর্ধেক চেকের মাধ্যমে দেওয়া হলেও, বাকি অর্ধেক আসত নগদে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই নগদ টাকার উৎস নিয়েই সবচেয়ে বেশি সন্দেহ। অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলি থেকে আসা অর্থ এবং অন্যান্য অঘোষিত টাকার বড় অংশ এই নগদের মধ্যেই লুকিয়ে থাকত। পরে সেই অর্থই নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হত বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।

তদন্ত এখানেই থেমে নেই। ইডির দাবি অনুযায়ী, ২০১৯-২০২০ এবং ২০২০-২০২১ অর্থবর্ষে আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ঢোকে ‘রামসেতু ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি সংস্থা থেকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সংস্থাটি কোনও ব্যাঙ্ক বা এনবিএফসি নয়। তবুও কোনও স্পষ্ট চুক্তি ছাড়াই এত বড় অঙ্কের টাকা ‘লোন’ হিসেবে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই সংস্থার মাধ্যমেই হাওলার টাকা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে ঢোকানো হয়েছিল। এছাড়াও, ২ এপ্রিল তল্লাশির সময় ভিনেশ এবং সংস্থার অন্যান্য কর্মীদের বাড়ি থেকে যে নথি উদ্ধার হয়েছে, তার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে উদ্ধার হওয়া নথির। ফলে গোটা বিষয়টি এখন আরও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।

আরও পড়ুনঃ গ্রেফতার, সাসপেনশন, SIT তদন্ত, তবুও কি ধোঁয়াশা কাটছে না TCS নাসিক কাণ্ডে? কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় গাফিলতি, না কি আরও বড় কোনও বিতর্কের ইঙ্গিত? এই নিয়ে কী জানালো টিসিএস?

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। আইপ্যাক দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করেছে। ফলে এই অভিযোগ কতটা সত্যি এবং এর প্রভাব কতদূর গড়াতে পারে, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা চলছে। ইডি-র তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু বলা না গেলেও, আপাতত এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই ক্ষেত্রেই বাড়ছে অস্বস্তি।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles