গ্রেফতার, সাসপেনশন, SIT তদন্ত, তবুও কি ধোঁয়াশা কাটছে না TCS নাসিক কাণ্ডে? কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় গাফিলতি, না কি আরও বড় কোনও বিতর্কের ইঙ্গিত? এই নিয়ে কী জানালো টিসিএস?

মহারাষ্ট্রের নাসিকের একটি বহুজাতিক আইটি সংস্থার ক্যাম্পাসকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর বিতর্ক। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, শালীনতা এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে TCS (Tata Consultancy Services) অভিযোগের জেরে ইতিমধ্যেই বিষয়টি গড়িয়েছে প্রশাসনিক স্তরেও, এবং তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে আইটি শিল্পের একটি সংগঠন।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েকজন মহিলা কর্মীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, নাসিকের ওই অফিসে কর্মরত আটজন মহিলা কর্মী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের ওপর জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলেও দাবি উঠেছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই স্থানীয় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।

তদন্ত এগোতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন সংস্থার এক মহিলা এইচআর ম্যানেজারও। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা বহুবার সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগে বিষয়টি জানালেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড়সড় ঘাটতির ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এই প্রেক্ষিতেই একটি আইটি ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের দাবি, শুধুমাত্র এই ঘটনাই নয়, গোটা সংস্থার কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ এবং POSH (Prevention of Sexual Harassment) নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ, নির্দিষ্ট সময়সীমাবদ্ধ অডিট করা হোক। পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের অন্যান্য আইটি ও আইটিইএস সংস্থাগুলিতেও একই ধরনের পর্যালোচনার দাবি তোলা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ২৬ বছর পর ছোটপর্দায় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়! বিগ বাজেট ছবি আর ওয়েব সিরিজের যুগেও কি পাচ্ছেন না তেমন সুযোগ? তাই কি টেলিভিশনকেই বানালেন নতুন মাধ্যম?

অন্যদিকে, TCS জানিয়েছে, তারা বরাবরই কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। সংস্থার তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যেকোনও ধরনের হয়রানি বা জবরদস্তির বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। অভিযোগ সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত কর্মীদের সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তদন্তে প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। এখন সকলের নজর তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে, যা এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles