বিধানসভায় জানিয়ে লাভ হয়নি, তাই এবার মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে গেলেন শুভেন্দু

এর আগে বিধানসভায় স্পিকারের কাছে এই নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। এই কারণে এবার মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে ছুটলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল, সোমবার হাইকোর্টে গিয়ে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের দাসবি জানিয়ে মামলা দায়ের করেন শুভেন্দু।

মামলা দায়েরের পর হাই কোর্ট চত্বরে দাঁড়িয়েই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দলত্যাগ বিরোধী আইনে মুকুল রায়ের যে বিষয়টি ছিল তা নিয়ে আমরা চার মাস অপেক্ষা করেছি। অধ্যক্ষের কাছে চারটে শুনানিতে অংশও নিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আমরা হাই কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইলাম, যাতে দলত্যাগ বিরোধী আইনে মুকুল রায় বিধায়ক পদ বাতিল করা হয়”।

আরও পড়ুন- ভবানীপুরে উপনির্বাচন হবে নির্দিষ্ট দিনেই, ঘোষণা করে কমিশনকে জরিমানা হাইকোর্টের

প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মুকুল রায়। জয়ীও হন কিন্তু ফলাফল প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজের পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে যান। সেই সময় দলত্যাগ বিরোধী আইনে মুকুলের সদস্যপদ বাতিলের জন্য বিধানসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানায় বিজেপি। সেই মামলার শুনানি এখনও চলছে।

কিন্তু সেই মামলার কোনও নিষ্পত্তি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন বিরোধী দলনেতা। এদিন শুভেন্দু আরও বলেন, “মণিপুর বিধানসভার অধ্যক্ষের মামলা সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশ রয়েছে যেখানে সুপ্রিম কোর্ট তিন মাসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশের কথা আমরা হাই কোর্টে উল্লেখ করেছি। আদালতের কাছে আমরা বিচার চেয়েছি। আইন ব্যবস্থার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে”।

আরও পড়ুন- পুজোর পরই ফের বাজবে ভোটের বাদ্যি, বাকি চার কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করল কমিশন

এদিন এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, “বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আছে, তিন মাসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তিন মাস অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বার বার বিভিন্নভাবে সময় নেওয়া হচ্ছে। তাই আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, হয় এক সপ্তাহের মধ্যে অধ্যক্ষকে বিষয়টি শেষ করতে বলা হোক, নয়তো বিকল্প হিসেবে সরাসরি আদালত মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের কথা ঘোষণা করুক”।

RELATED Articles