‘এঁরা থাকতে আমরা ভাল কাজ করতে পারিনি’, সব্যসাচীর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে সরব সুকান্ত

জল্পনা বেশ কিছুদিন ধরে চলছিলই। অবশেষে তা সত্যি করে আজ, বৃহস্পতিবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন সব্যসাচী দত্ত। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের অনেক আগেই ২০১৯ সালে মুকুলের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অমিত শাহ্‌’র হাত থেকে গেরুয়া শিবিরের পতাকা তুলে নিয়েছিলেন সব্যসাচী। এবার তাঁর ফের দলবদল নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

এদিন সুকান্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সব্যসাচী কোনওদিন আমাদের দলে থেকে ভোটে জেতেননি। ওঁর মতো কিছু লোক যাঁরা এখন দল ছেড়ে যাচ্ছে তাঁরা থাকতে আমরা ভাল পারফর্ম করতে পারিনি। এঁরা থাকতে ভাল কাজ করতে পারিনি। দল ওঁকে সম্মান দিয়েছিল। রাখতে পারলেন না সেটা সব্যসাচীর ব্যাপার। ওঁর সঙ্গে দলের কোনও আত্মিক সংযোগ ছিল না। এইসব নেতারা ছাড়াই বিজেপি লড়াই করে ১৮ টা আসন জিতেছিল। যাঁরা চলে যাচ্ছেন তাঁদের অনুপস্থিতিতে দলে কোনও প্রভাব পড়বে না”।

তবে শুধু সুকান্তই নন, সব্যসাচী দল ছাড়ায় বেশ খুশি বিজেপি পুরনো নেতারাও। আসলে নিত্যদিন নতুন নতুন নেতাদের আগমনে দলের পুরনো নেতারা বেশ কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছিলেন। নতুন এই নেতাদের প্রভাব ও প্রাদুর্ভাব মেনে নিতে পারছিলেন না তারা।

এদিকে, মুকুল রায় তৃণমূলে ফেরার পর থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে সব্যসাচী হয়তো তৃণমূলে ফিরবেন। তাই-ই নয়, সব্যসাচীর তৃণমূলে ওয়াপসিতে যে মুকুলেরই হাত রয়েছে, এমনটাও মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

একুশের নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে সব্যসাচীর। অবশেষে আজ তিনি বিধানসভায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়-সহ ৩ বিধায়কের শপথের পরই পার্থ চট্টোপাধ্য়ায় ও ফিরহাদ হাকিমের হাত থেকে ঘাসফুলের পতাকা তুলে নেন। সূত্রের খবর, এ দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়কের পদে শপথগ্রহণের কিছুক্ষণ পরই তাঁর ঘরে দেখা যায় সব্যসাচী দত্তকে। যে সময় মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চলছিল, তখন খবর মেলে যে সব্যসাচী বিধানসভায় এসেছেন। জানা যায়, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ঘরেই বসে ছিলেন।

এদিকে সব্যসাচীর ঘর ওয়াপসিতে মোটেই খুশি নন শাসকদলের একাংশ। সৌগত রায় থেকে শুরু করে সুজিত বসু, তাপস চট্টোপাধ্যায় এর বিরোধিতা করে ক্ষোভ জাহির করেছেন। তবে সব্যসাচীকে তাঁর বিধাননগরের মেয়র পদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে কী না, এ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সব্যসাচীকে হয়তো ত্রিপুরা বা অসমের সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করতে পারে তৃণমূল।

আরও অন্যান্য খবর