নির্দিষ্ট গাইডলাইন মানেননি দমকলমন্ত্রীন সুজিত বসু, ‘বুর্জ খলিফা’ মণ্ডপ নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য

দলের সাংসদের মন্তব্যের রেশ ধরে শ্রীভূমির পুজো নিয়ে আরও এক তথ্য সামনে এল। শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পুজো বলেই পরিচিত। কিন্তু সেই পুজোতেই মানা হয়নি দমকল বিভাগের গাইডলাইন।

শ্রীভূমির পুজোর লেজার লাইটের কারণে বিমান উড়ানে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। এরপর ফের আরও একটি তথ্য এবার সামনে এল যার জেরে ফের নতুন করে অস্বস্তিতে পড়ল শ্রীভূমি কর্তৃপক্ষ। দমকল বিভাগের গাইডলাইনে পুজোর মণ্ডপের অনুমতি ক্ষেত্রে ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা রয়েছে যে মণ্ডপের উচ্চতা ৪০ ফুটের বেশি রাখা যাবে না। সেক্ষেত্রে বুর্জ খলিফার উচ্চতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। দমকলমন্ত্রী নিজেই এই পুজোর উদ্যোক্তা হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এই নিয়ম এড়িয়ে গেলেন, তা নিয়ে শুরু বিতর্ক।

বুর্জ খলিফার আলো বন্ধের হওয়ার পর থেকেই বেশ চোটে রয়েছেন সুজিত বসু। এদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “সুজিত এমনিতে ভালো ছেলে। কিন্তু এই ব্যাপারে আরও একটু বেশি রেশপনসিবেল হওয়া উচিত ছিল”।

আবার বিতর্ক উস্কে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দেন শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ের পুজোয় কিছুটা হলেও আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। কল্যাণ বলেন, “আইন অনুযায় বিমানবন্দরের ২০ থেকে ২৫ কিমি রেডিয়াসে কোনও রকম কনস্ট্রাকশন বা লাইট অনুমতি নিয়ে করতে হয়। এটা এক্ষেত্রে করা হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। কেন আমি এত ভিড় ডাকব”?

শ্রীভূমির পুজো উদ্যোক্তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কোভিডের সময়ে আমার উদ্দেশ্য হল পুজো হচ্ছে হোক, ভিড় করতে দেব না। ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট একটা বড় ব্যাপার। এমন কিছু একটা করা উচিত নয়, যেখানে লক্ষ লক্ষ লোক এল। তাতে তো আমাদের সরকারি উদ্দেশ্যটাই ব্যাহত হয়েছে। খোলা মেলা করে রাখা উচিত ছিল”।

এই ঘটনার সূত্রপাত অষ্টমীর সন্ধ্যায়। শ্রীভূমির মণ্ডপে বেশ ভিড় হওয়ায় পুলিশ ভিড় সামলাতে হিমশিম খায়। এরপরই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট পুজো উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করেন যাতে বুর্জ খলিফার আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নানান বচসা, কথা কাটাকাটি, পুজো বন্ধ করে ঘট পুজো করা, মণ্ডপ থেকে পুলিশ প্রহরা তুলে নেওয়ার আর্জি, সব মিলিয়ে অষ্টমীর পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।

অষ্টমীতে মাঝরাতের পরই সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্তাদের উপস্থিতিতে দমকলমন্ত্রী তথা পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা সুজিত বসু জানিয়ে দেন যে নবমী থেকে কোনও দর্শনার্থী শ্রীভূমি পুজো মণ্ডপে ঢুকতে পারবেন না। তবে পুজোর নানান উপাচার স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।

শাসকদলের একাধিক মন্ত্রী একাধিক পুজোর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এবারের সব চর্চার শিরোনামে উঠে এসেছে বুর্জ খলিফার নাম। নেপথ্যে উঠে এসেছে মন্ত্রী সুজিত বসুর নামও। একা বুর্জ খলিফাই জনস্রোত টেনেছে গোটা মহানগরীর। বিতর্কও অবশ্য কম হয়নি। কিন্তু সব বিতর্ক মাত্রা ছাড়িয়েছে অষ্টমীর রাতে। কার্যত মণ্ডপের দর্শনার্থীদের জন্য ‘নো এন্ট্রি’ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন মন্ত্রী।

আরও অন্যান্য খবর