তখন রাত বেশ বেড়েছে। কুয়াশায় ঢেকেছে চারিদিক। রাস্তাঘাটও ফাঁকা। এমন সময় এলাকার গলির মুখে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এক যুবতী। সেই সময় বেশ কয়েকজন দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের চোখে পড়ে এই ঘটনা।
যুবতীকে ডাকলেও কোনও সাড়া মেলে না। এরপরই দেখা যায় যুবতীর পাশেই রয়েছেন এক যুবক। স্থানীয়দের নজর পড়তেই তারা যুবক-যুবতীদের কাছে আসেন। প্রশ্ন করা হয় তাদের। কিন্তু জবাব যা মেলে, তা অসঙ্গতিতে ভরা। এরপরই যুবককে দেওয়া হয় রামধোলাই।
ধুপগুড়ির ৪ নম্বর ওয়ার্ডে শীতের রাতের অন্ধকারে ঘটল এই ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা অনুযায়ী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙা পাড়ায় এক গলির মুখে ওই যুবতী বসেছিলেন। তাঁর আচরণ একাবারেই স্বাভাবিক ছিল না। স্থানীয়দের দাবী, ওই যুবতী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তীতে এক যুবককে ওই মহিলার সঙ্গে দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয়দের কথায় তারা আগে কখনও ওই মহিলাকে এলাকায় দেখেন নি।
এই খবত ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা ওই জায়গায় জড়ো হতে থাকেন। কিছু লোক ওই যুবক-যুবতীকে প্রশ্ন করেন। কিন্তু তাদের দুজনের কথাতেই অসঙ্গতি ছিল। তারা স্পষ্ট করে কিছুই বলছিলেন না। এরপরই স্থানীয়দের সন্দেহ বাড়ে। তাদের ধারণা কোনও অসৎকাজের জন্যই ওই যুবতীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই যুবক।
এরপরই যুবককে দেওয়া হয় গণপিটুনি। মারধরের পর ওই যুবক জানান যে তিনি ময়নাগুড়ি থানার সিভিক ভলান্টিয়ার। আর ওই যুবতীর বাড়ি তেলিপাড়ায়। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ যুবক-যুবতীকে থানায় নিয়ে যান বলে খবর।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমি এসে দেখি মেয়েটা পড়ে রয়েছে। মেয়েটা নেশা করেছে। দাঁড়াতেও পারছিল না ঠিক মতো”। এরপর ওই বাসিন্দার কথায় উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তাঁর দাবী, “এলাকার মহিলারা ওই সিভিক ভলেন্টিয়াকে ওই যুবতীকে রাস্তায় বসিয়ে রেখে চলে যেতে দেখেছিলেন। পরে ওই যুবককে আবারও দেখা যায়। তখনই আমরা তাঁকে ধরে ফেলি। ওই যুবক দাবি করেছেন, ওই যুবতী নাকি তাঁকে বিভিন্ন ভাবে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন। টাকা নিচ্ছিলেন। আসলে আমাদেরই এলাকার এক জন মহিলা ওই যুবতীকে এই সব কাজে ব্যবহার করেন। অর্থাত্ বিভিন্ন পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করা। আমরা এবার ওই মহিলাকে ধরব”।
অন্য এক মহিলা বলেন, “মেয়েটা নেশা করেছে। তা না হলে এরকমটা হয় না। পুলিশকে আমরা জানিয়েছিলাম। পুলিশ এসে ওদের নিয়ে গেছে”।






