‘দলের মধ্যে কেউ উপদল করার চেষ্টা করবেন না, দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, অভিষেককে কড়া ভাষায় বার্তা মমতার

সামনেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচন। সদ্যই দলের অন্দরের বিতর্ক মিটেছে। এর মধ্যেই দলের উদ্দেশে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত বৃহস্পতিবার দলের সমস্ত সাংসদদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এবার থেকে সংগঠনের কাজ অনেকটাই নিজে দেখবেন তিনি। এর পাশাপাশি তিনি এও বলেন যে দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

তাঁর বার্তা, “পার্টিটা অহঙ্কার করার জায়গা নয়। দলটা গা জোয়ারি করার জায়গাও নয়। আমি শেষ কথা, একথা বলার জায়গা নেই আমাদের দলে। দলের মধ্যে কেউ উপদল করার চেষ্টা করবেন না। অনেক কষ্টে দলটা তৈরি করেছি। এই দলটাকে কোনও মতেই অন্য কারও কাছে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আমি এ ব্যাপারে খুব রাফ অ্যান্ড টাফ। যতদিন বাঁচব, তাতে যেভাবে পার্টিটাকে তৈরি করে যাব, একটা জেনারেশন নয়, ৪-৫টি জেনারেশন কাজ করতে পারবে”।

এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এদিন মমতা আরও বলেন, “আমি নানা কাজে ব্যস্ত থাকি। প্রচণ্ড কাজের চাপ। তা সত্ত্বেও এবার আমি নিজেই সংগঠনের কাজ অনেকটা দেখব”।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এমন বার্তা দিয়ে তৃণমূল নেত্রী কার্যত বুঝিয়ে দিলেন যে দলে এখনও পর্যন্ত তিনিই শেষ কথা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, এই বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেই দেওয়া। এমনটা বলে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে দলটা তিনিই চালান, অন্য কেউ নয়।

এই বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করতে কসুর করে নি বিরোধীরা। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী এদিন বলেন, “তৃণমূল দলটা কীভাবে চলে সাধারণ মানুষ জানেন, দলটা যে তিনি চালান, ভাইপো নন, সেটা বুঝিয়ে দিলেন”। অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, “বিরোধীদের কাজ নেই, সবকিছুতেই যা খুশি মন্তব্য করতে হবে”। তবে মমতার এমন বার্তা থেকে অনেকের প্রশ্ন উঠেছে যে তবে কী মমতা ও অভিষেকের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে?

আরও অন্যান্য খবর