তৃণমূলের পুরভোটের প্রার্থীতালিকায় ‘বিভ্রান্তি’র সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নয় আইপ্যাক, দায় ঝেড়ে ফেললেন প্রশান্ত কিশোর

বাংলায় বাকি পুরসভায় ভোটের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল। কিন্তু এই তালিকা নিয়ে দলের অন্দরে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। এই বিভ্রান্তির দায় নিতে নারাজ প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাক। দায় ঝেড়ে আজ, শনিবার সংস্থার তরফে দাবী করা হয়েছে যে রাজ্যের পুরসভার ভোটের সঙ্গে তারা যুক্ত নয়। পুরভোটের প্রার্থীতালিকার সঙ্গেও তাদের কোনও যোগসূত্র নেই।

সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা না করা হলেও, প্রশান্ত কিশোর নিজের ঘনিষ্ঠমহলে এমনটাই জানিয়েছেন বলে দাবী আইপ্যাকের নানান মহলের। তবে এমন পরিস্থিতিতে কোন তালিকাটি চূড়ান্ত, তা নিয়েও সংশয় খানিক কাটলেও, নানান জেলার নেতৃত্বদের মধ্যে এখনও ক্ষোভ রয়েছে।

গতকাল, শুক্রবার বিকেলে দার্জিলিং ছাড়া বাকি ১০৭টি পুরসভার নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রায় হাজার তিন প্রার্থীর নাম সংকলিত পুস্তিকা দেখিয়ে সাংবাদিকদের তৃণমূল নেতৃত্ব বলেন, “এই তালিকা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমোদন করেছেন। সব জেলা সভাপতির কাছে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজেদের জেলা থেকে তাঁরা সেগুলি জানিয়ে দেবেন”। এদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন তালিকা তৈরির কাজে মূল ভারপ্রাপ্ত দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

তৃণমূলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও মিডিয়া গ্রুপেও বিশদে প্রকাশিত হয় প্রার্থী তালিকা। এরপরই পরিস্থিতি জটিল হয়। রাজ্যের নানান জায়গা থেকে একাধিক নেতা, সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়করা এই প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এরপর পার্থ চট্টোপাধ্যায় ফের ঘোষণা করেন, “এআইটিসি’র নেটমাধ্যমে প্রকাশিত ওই তালিকা ঠিক নয়। কারণ, সেগুলিতে নেতৃত্বের কোনও স্বাক্ষর নেই। স্বাক্ষর-সহ তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে”।

এরপর এদিন সন্ধ্যার পর সুব্রত বক্সী ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সই করা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে এতে কিছুটা রদবদল দেখা যায়। তবে এর আগের তালিকাটি কারা, কার সম্মতিতে প্রকাশ করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ দেখাশোনার করার দায়িত্ব প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক সংস্থার। তাই তারা মাঝেমধ্যেই নানান প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। তবে তাহলেও এর সঙ্গে দলের নাম জড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই তালিকা দেখে নেতারা বিভ্রান্ত হয়েছেন। শীর্ষস্তরে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন তারা।

তবে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার তরফে দাবী করা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গের পুরসভার ভোটের সঙ্গে তারা কোনও ভাবেইও জড়িত নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে, সে সম্বন্ধে তারা কিছু জানে না, তাদের কোনও যোগসূত্র নেই এই বিষয়ে।

RELATED Articles